১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিশ্বনেতাদের প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি বার্তা
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৮ ১৯:০৭:৫৯
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিশ্বনেতাদের প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটাতে বিশ্বনেতাদের প্রতি অত্যন্ত জোরালো ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বিশ্ববিবেকের কাছে এই শান্তি বার্তা পৌঁছান।

ড. ইউনূস তার বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব বর্তমানে যুদ্ধের ক্ষতে জর্জরিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত সমগ্র বিশ্বকে এক গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বর্তমান সময়কে মানবতার জন্য এক ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ড. ইউনূসের ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশু ও নারী। নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে বাড়িঘর, হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোও চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক গভীর নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন আজ চরম বিপন্ন।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাহস, সহমর্মিতা ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বৈশ্বিক ঐক্য গড়ে তোলার সময় এসেছে। ড. ইউনূস বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা এই পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। ড. ইউনূস তার বিবৃতিতে আরও বলেন, “এটি শুধু ভূরাজনীতি বা ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমাদের যুদ্ধ নয়, শান্তিকে বেছে নিতে হবে। হামলা নয়, সংলাপকে বেছে নিতে হবে এবং বিভাজন নয়, ঐক্যকে বেছে নিতে হবে।”

পরিশেষে তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান, যাতে পৃথিবী আবারও স্থিতিশীলতার পথে ফিরে আসতে পারে।