১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:০৫:০৩ অপরাহ্ন


খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত ও একাধিক চ্যালেঞ্জিং এজেন্ডা
কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৮ ১৮:২১:২৫
খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত ও একাধিক চ্যালেঞ্জিং এজেন্ডা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর


নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই কোনো বাংলাদেশী মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। এই শুভেচ্ছা সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।


বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও আলোচনার বিষয়বস্তু:

বিকেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু টেবিলে ছিল:

  • প্রত্যর্পণ ও বিচার: ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরানো এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

  • সীমান্ত ও ভিসা: সীমান্তে হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা পুনরায় চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।

  • জ্বালানি ও বাণিজ্য: গঙ্গার পানিচুক্তির নবায়ন, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনঃপ্রবর্তন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোলিয়াম ও বাণিজ্য মন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক সমর্থন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।


কূটনৈতিক চমক: মাঝ আকাশে দীর্ঘ বৈঠক

দিল্লির আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ এপ্রিল ড. এস জয়শঙ্কর এবং ড. খলিলুর রহমান একই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে (এয়ার মরিশাস) মরিশাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। প্রায় আট ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রাটিকে কূটনৈতিক দিক থেকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, দাপ্তরিক গণ্ডির বাইরে একান্ত পরিবেশে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পাবেন।