১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৪৪:২৩ অপরাহ্ন


সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: গুমের বিচার ও নাম পরিবর্তনের সংশোধনী কার্যকর
সংসদীয় প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৭ ১৯:১৯:৫৩
সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: গুমের বিচার ও নাম পরিবর্তনের সংশোধনী কার্যকর


অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলগুলো পাস হয়।

গুমের বিচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধন আজকের সংসদীয় কার্যক্রমে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস। বিলটি উত্থাপনকালে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন: “গুমের বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই আইনটি সেই সদিচ্ছারই প্রতিফলন। সরকারের অবস্থান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে তাদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলো।”

পাস হওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিলসমূহ:

  • আইন ও বিচার: ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে।

  • পানিসম্পদ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উত্থাপিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়।

  • স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: বেশ কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

    • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল।

    • শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) বিল।

    • বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল।

  • তামাক নিয়ন্ত্রণ: ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ সংসদে উপস্থাপন ও পাস করা হয়।

বিশেষ কমিটির সুপারিশ ও পদ্ধতি সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করেছিল। আজকের পাস হওয়া বিলগুলো সেই সুপারিশ অনুযায়ী কোনো সংশোধনী ছাড়াই সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ধারা অনুযায়ী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলোর ওপর আলাদা কোনো বিতর্ক বা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।