১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪৬:০১ অপরাহ্ন


অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে টিআইবি’র তীব্র ক্ষোভ: ‘অঙ্গীকার কি তবে শুধুই কথার কথা?’
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৪ ১৪:১৮:০৪
অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে টিআইবি’র তীব্র ক্ষোভ: ‘অঙ্গীকার কি তবে শুধুই কথার কথা?’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)


সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, এই পদক্ষেপগুলো দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পথে বড় বাধা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এই তিনটি অধ্যাদেশ হুবহু ‘বিল’ আকারে সংসদে উত্থাপনের দাবি জানায়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশন ও তথ্য অধিকার সংক্রান্ত স্থগিত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের কড়া সমালোচনা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয় গঠনের যে প্রতিশ্রুতি ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল, এই অধ্যাদেশ বাতিল কি তারই নমুনা? বিগত স্বৈরাচারী আমলে বিচার বিভাগ যেভাবে দমনের হাতিয়ার হয়েছিল, সরকার কি তা এত দ্রুত ভুলে গেল?”

তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:

  • মানবাধিকার কমিশন: কার্যকর কমিশন গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অধ্যাদেশ স্থগিত হওয়ায় তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

  • গুম প্রতিরোধ: গুম-খুনের শিকার হওয়া একটি দলের সরকার কীভাবে গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের নামে স্থগিত করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি সতর্ক করেন যে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাতে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হলে তা হবে আত্মঘাতী।

  • দুদক ও পুলিশ কমিশন: দুদকের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য ‘স্বাধীন বাছাই কমিটি’ গঠন এবং পুলিশকে জনবান্ধব করতে নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

টিআইবি’র মূল দাবিগুলো: ১. সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিল আকারে পাস করা। ২. গুম প্রতিরোধ ও তথ্য অধিকার আইনের দুর্বলতাগুলো দ্রুত সংশোধন করে আইন করা। ৩. স্থগিত সব অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত কার্যকর করা।

টিআইবি মনে করে, রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে এসব আইনের অভাবেই অধিকার হরণের শিকার হয়েছে। তাই অতীতের শিক্ষা থেকে এই অধ্যাদেশগুলো দ্রুত স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া জরুরি।