১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৩১:০১ অপরাহ্ন


সংসদে তুমুল বিতর্ক: সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক নিয়ে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল
সংসদ প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৯ ২০:১৬:১৫
সংসদে তুমুল বিতর্ক: সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক নিয়ে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল


সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী দল। রোববার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই বিতর্ক উসকে দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিরোধী দলের দাবি: ‘সব স্থগিত করে আগে সংস্কার’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান। তিনি বর্তমান অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার জন্য নোটিশ পেশ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত ১৫ মার্চ স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা বিধি মোতাবেক নোটিশ দিয়েছি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও কার্যক্রম শুরু করা এখন সময়ের দাবি। এটি বাদ দিয়ে অন্য নিয়মিত কার্যক্রমে যাওয়া উচিত নয়।”

সরকারি দলের অবস্থান: ‘আগে সংসদীয় কার্যসূচি’

সরকারি দলের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পাল্টাযুক্তি দিয়ে বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির নোটিশ (জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়) সংসদ সদস্যদের মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা বিধি মোতাবেক নোটিশ দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আগে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করতে হবে। এর জন্য বরাদ্দকৃত ২ ঘণ্টা সময় পার হওয়ার পর অন্য যেকোনো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।”

চিফ হুইপ আরও মনে করিয়ে দেন যে, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে এই পরিষদ গঠিত হতে পারেনি, যা একটি আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।

ডেপুটি স্পিকারের রুলিং

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, তিনি বিরোধী দলের নোটিশটি গ্রহণ করেছেন। তবে সংসদের দীর্ঘদিনের রীতি ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, ৭১ বিধির জরুরি নোটিশগুলোর ওপর আলোচনা শেষ হওয়ার পরই এই বিশেষ নোটিশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।