১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন


চার মাস পেট্রল রপ্তানি বন্ধ রাখছে রাশিয়া: বিশ্ববাজারে নতুন সংকটের শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৯ ১৭:৩৮:৩৫
চার মাস পেট্রল রপ্তানি বন্ধ রাখছে রাশিয়া: বিশ্ববাজারে নতুন সংকটের শঙ্কা ক্রেমলিন সেনেট ভবনের গম্বুজে উড়ছে রুশ পতাকা। ফাইল ছবি। ছবি: রয়টার্স


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের দামের ব্যাপক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক।

অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে নোভাক জানান, বিদেশের বাজারে রুশ জ্বালানির বিপুল চাহিদা থাকলেও বর্তমানে দেশের ভেতরের গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশ্বজুড়ে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের অস্থিরতার কারণে রাশিয়ার ভেতরে যাতে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সেজন্যই এই চার মাসের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা। তবে রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতা পর্যাপ্ত রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ট পেট্রল ও ডিজেল মজুদ আছে বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হতো। বর্তমানে শত শত জাহাজ সাগরে আটকা পড়ে থাকায় নৌচলাচলের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। রাশিয়ার এই রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত সার, খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ইরান-মার্কিন যুদ্ধের ভয়াবহতা

মধ্যপ্রাচ্যে এক মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পাল্টায় ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।