১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৩৯:০২ অপরাহ্ন


হরমুজে আটকানো হচ্ছে না বাংলাদেশের জাহাজ: নিরাপদ যাতায়াতের আশ্বাস ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৬ ২১:১৫:৪০
হরমুজে আটকানো হচ্ছে না বাংলাদেশের জাহাজ: নিরাপদ যাতায়াতের আশ্বাস ইরানের


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের মতো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য পথ খোলা রেখেছে ইরান। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পশ্চিমা গণমাধ্যমের ‘হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ’ থাকার দাবি নাকচ করে এই তথ্য জানান।

‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়

আব্বাস আরাকচি বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়ে অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের জাহাজগুলো আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গত কয়েক রাতেই নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। আমার বিশ্বাস, এই তালিকায় বাংলাদেশও আছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যাদের বন্ধু মনে করে, তাদের নৌযান চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

শত্রুপক্ষ বনাম মিত্রপক্ষ

ইরান আগে থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের শত্রুপক্ষ এবং শত্রুকে সহায়তাকারী দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া অন্য সবাই এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। বিশ্বে মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু প্রবেশপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথটি অচল হয়ে পড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা ছিল, তবে ইরানের এই নমনীয় অবস্থান বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় এক ডজন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের প্রবাদে জ্বালানি বাজার এবং আকাশপথ স্থবির হয়ে পড়লেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই নতুন সমন্বয় নীতি বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।