১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৩:৪৪ অপরাহ্ন


সাগরতলে চীনের বিশাল মানচিত্র: সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতিতে নতুন উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৪ ১৯:৪৯:০৭
সাগরতলে চীনের বিশাল মানচিত্র: সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতিতে নতুন উদ্বেগ


প্রশান্ত, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরের গভীরে বিশাল পরিসরে মানচিত্র তৈরি ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে চীন। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বেইজিংয়ের ‘ডং ফাং হং ৩’ সহ অন্তত ডজনখানেক গবেষণা জাহাজ গত পাঁচ বছর ধরে কৌশলগত সমুদ্রসীমায় নিয়মিত যাতায়াত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিস্তারিত সামুদ্রিক তথ্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সাবমেরিন যুদ্ধে চীনকে এক বিশাল কৌশলগত সুবিধা দেবে।

‘ডং ফাং হং ৩’ ও কৌশলগত অবস্থান

জাহাজ ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, ওশান ইউনিভার্সিটি অব চায়না পরিচালিত ‘ডং ফাং হং ৩’ জাহাজটি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাইওয়ান, গুয়াম (মার্কিন সামরিক ঘাঁটি) এবং মালাক্কা প্রণালির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করেছে। যদিও চীন একে জলবায়ু ও বেসামরিক গবেষণা বলে দাবি করছে, তবে নৌ-বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত সমুদ্রতলের ভূ-প্রকৃতি, তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও স্রোতের তথ্য সংগ্রহ করছে। সাবমেরিন শনাক্তকরণ ও চলাচলের জন্য এই ডাটাগুলো অপরিহার্য।

সিভিল-মিলিটারি ফিউশন ও ‘স্বচ্ছ সমুদ্র’ প্রকল্প

চীনা গবেষকরা এই মিশনকে ‘ট্রান্সপারেন্ট ওশান’ বা ‘স্বচ্ছ সমুদ্র’ প্রকল্প বলছেন। এর লক্ষ্য হলো সমুদ্রের ভিতরের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে জানা। অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন বাহিনীর সাবেক প্রধান পিটার স্কট বলেন, "যেকোনো দক্ষ সাবমেরিন অফিসার তার অপারেটিং পরিবেশ বুঝতে প্রচুর সময় ব্যয় করেন। চীন এখন সেই পরিবেশের ডিজিটাল মানচিত্র বানাচ্ছে।" বেইজিংয়ের এই ‘সিভিল-মিলিটারি ফিউশন’ নীতি অনুযায়ী বেসামরিক গবেষণা ও সামরিক প্রযুক্তি একত্রে কাজ করে, যা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও চীনের লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইক ব্রুকস জানান, চীন এই গবেষণার মাধ্যমে সাবমেরিন নেভিগেশন ও গোপনীয়তা বজায় রাখার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। আগে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও চীন এখন সেই ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে। চীনের মূল লক্ষ্য ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ ছাড়িয়ে ‘ব্লু-ওয়াটার নেভাল ক্যাপাবিলিটি’ তৈরি করা, যাতে তারা গভীর সমুদ্রে মার্কিন নৌবাহিনীকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। 

সূত্র: রয়টার্স