১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৪:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন


শহীদ মিনারে রাকিব হত্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ‘ভাড়াটে খুনি’ ও প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৮ ১৪:১৩:২৬
শহীদ মিনারে রাকিব হত্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ‘ভাড়াটে খুনি’ ও প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম (রাকিব)


রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন স্থগিত, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

গ্রেপ্তারদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ দুপুর ১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। তবে পুলিশি সূত্র থেকে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মিশন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন:

মোটিভ: প্রেমঘটিত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

পরিকল্পনা: ঘাতকরা ৭-৮ জনের একটি দল নিয়ে হামলায় অংশ নেয়।

ভাড়াটে খুনি: চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, খুনিদের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ভাড়া করে’ ঢাকায় আনা হয়েছিল।

যেভাবে ঘটেছিল সেই বিভীষিকা

গত রবিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাকিব তার বন্ধুদের সঙ্গে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ একদল যুবক এসে প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। তবে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে একজনকে চাপাতিসহ হাতেনাতে ধরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন।

কে এই রাকিব?

নিহত রাকিবুল ইসলাম রাজধানীর বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বাবা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। তাদের স্থায়ী নিবাস ভোলা সদর উপজেলায়।

সংবাদের মূল পয়েন্টগুলো:

গ্রেপ্তার: এখন পর্যন্ত মোট ৪ জন পুলিশের জালে।

মূল কারণ: প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব এবং পরিকল্পিত প্রতিশোধ।

হামলাকারী: ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

উপসংহার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।