১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:১১:৫৩ অপরাহ্ন


খাল খননের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ আছে: অর্থমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৬ ১৬:১৩:০৩
খাল খননের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ আছে: অর্থমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত


সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রকল্পই অত্যন্ত সুক্ষ্ম হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৬ মার্চ) চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ একবারে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন শেষ হলে দেশের কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একটি নির্দিষ্ট খালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর নতুন জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং বছরে প্রায় পাঁচ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া খালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন কোনো খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখতে পারবে না। সীমানা চিহ্নিত করার পরপরই দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেখানে খনন কাজ শুরু করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গে শেষ করা এবং দুর্নীতির সব পথ বন্ধ করা। কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো এই খাল খনন প্রকল্পও তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মীরসরাইয়ের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও বিশেষ অবদান রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।