১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৪০:২১ অপরাহ্ন


ইসরায়েলের কমান্ড সেন্টারে ইরানের আঘাত: প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হলো অতিগতিসম্পন্ন ‘সিজ্জিল’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৫ ২০:২৫:২২
ইসরায়েলের কমান্ড সেন্টারে ইরানের আঘাত: প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হলো অতিগতিসম্পন্ন ‘সিজ্জিল’ অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ ৪’


ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৬তম দিনে এসে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে তেহরান। রবিবার (১৫ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে যে, তারা ইসরায়েলের গভীর অভ্যন্তরে অত্যন্ত বিধ্বংসী ও কঠিন জ্বালানিচালিত সিজ্জিল (Sejjil) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ (True Promise 4)

বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলাটি ইরানের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৫৪তম পর্যায়ের অংশ। আইআরজিসি জানায়, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতের বদলা নিতেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ

আইআরজিসি’র দাবি অনুযায়ী, এবারের হামলায় এমন সব কেন্দ্র লক্ষ্য করা হয়েছে যেগুলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখে। হামলায় ব্যবহৃত মূল অস্ত্রগুলো হলো:

  • সিজ্জিল (Sejjil): প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কঠিন জ্বালানিচালিত, যা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে উৎক্ষেপণ করা যায়। এটি ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্র ও সামরিক অবকাঠামোতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে।

  • খোররামশাহ (Khorramshahr): ২ টন ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই অতিভারী ক্ষেপণাস্ত্রটি দিয়ে সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

  • খায়বার শেকান, কদর এবং ইমাদ: উচ্চ গতিসম্পন্ন এবং লক্ষ্যভেদী এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের রাডার ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সেনাশিবিরে আঘাত হেনেছে।

ক্ষয়ক্ষতির দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি

ইরানের দাবি অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডের ভেতরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং সেনাবাহিনীর সমাবেশস্থলগুলো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো তেল আবিব এবং মধ্য ইসরায়েলে বিস্ফোরণ ও ভবনের ক্ষতির খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ‘এয়ার ব্রিজ’ তৈরি করে গোলাবারুদ সরবরাহ শুরু করেছে।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের নজিরবিহীন বিমান হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত রণক্ষেত্র। ইরান ইতোমধ্যে এই যুদ্ধে কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা সৈয়দ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের এই প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ না শত্রুপক্ষ আত্মসমর্পণ করে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।