১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন


নিখোঁজ নেতানিয়াহু, যেকোনো মূল্যে তাকে মারতে চায় ইরান
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৫ ১৩:৪৬:০৫
নিখোঁজ নেতানিয়াহু, যেকোনো মূল্যে তাকে মারতে চায় ইরান ছবি: সংগৃহীত


ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরান এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিল। বিপ্লবী গার্ডসের নিজস্ব মুখপত্র 'সেপাহ নিউজ'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে 'শিশু-হত্যাকারী অপরাধী' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অপরাধী যতদিন জীবিত থাকবে, ইরান তাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং হত্যার অভিযান পূর্ণ শক্তি দিয়ে অব্যাহত রাখবে।

ইরানের এই সরাসরি হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই ইসরায়েলের ভেতরে তৈরি হয়েছে রহস্য ও চাঞ্চল্য। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সাধারণত ইসরায়েলের বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকগুলো নেতানিয়াহু নিজেই পরিচালনা করে থাকেন। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বৈঠকে তার আকস্মিক অনুপস্থিতি ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে।

সংবাদমাধ্যম গ্লোব অবজারভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উচ্চস্তরের এই নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহু এক প্রকার 'নিখোঁজ' ছিলেন। তার পরিবর্তে বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ইসরায়েল কাৎজ। সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন বৈঠক প্রধানমন্ত্রী এড়িয়ে চলেন না, অথচ এবার কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই তিনি অন্তরালে রয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এখন পর্যন্ত এই রহস্যজনক অনুপস্থিতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর এই রহস্যময় অনুপস্থিতি ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, নাকি এটি কৌশলগত কোনো পদক্ষেপ—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। একদিকে ইরানের হত্যার ঘোষণা আর অন্যদিকে খোদ ইসরায়েলি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।