১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২৯:১২ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিয়েছে তাই আমিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেব: মনিকা কবির
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১২ ১৯:০২:২৩
বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিয়েছে তাই আমিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেব: মনিকা কবির ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর গুলশানে এক পথচারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন রুশ বংশোদ্ভূত মডেল মনিকা কবির। গত মঙ্গলবার গুলশান-২ এলাকায় টিকটক ভিডিও ধারণের সময় এক বৃদ্ধের ব্যাগের কোনা তার গায়ে লাগলে তিনি চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ ওঠে যে, তিনি ওই বৃদ্ধকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ব্যাগ কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ছুড়ে মারেন। এই পুরো ঘটনার ভিডিও নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার জেরে আইনি বিপাকে পড়েছেন মনিকা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিকে হাজির হতে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এর আগে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়েছিল।

আইনি ব্যবস্থা এবং জনরোষের মুখে মনিকা কবির এক মুঠোবার্তায় বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নিজের চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে নিজের দেশে (রাশিয়া) তুলে ধরেছেন এবং এ দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তাকে কষ্ট দিচ্ছে এবং এর বিনিময়ে তিনিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেবেন। তিনি হুমকি দিয়ে আরও বলেন, তিনি যদি চলে যান তবে ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি মেয়ে আর বাংলাদেশে আসবে না। এ দেশের মানুষের আচরণ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, এ দেশে মেয়েদের ওপর পানি ফেলা হয়।

রাশিয়ায় জন্ম ও মস্কোতে বেড়ে ওঠা এই মডেলের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। তার মা রুশ নাগরিক এবং বাবা একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী। ২০১২ সালে বাবার ব্যবসার সূত্রে বাংলাদেশে আসা মনিকা কবির তার খোলামেলা পোশাক ও জীবনযাপনের জন্য আগে থেকেই নেটিজেনদের মাঝে আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন। তবে একজন বয়স্ক মানুষকে লাঞ্ছিত করার এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাকে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।