সাভারে আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ও অস্ত্রধারী ক্যাডার মো. নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে ‘পিস্তল বাদশা’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে সাভার পৌরসভার ডেল্টার মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ২২ বছর বয়সী নাঈম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কুনাউড় গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে নাঈম সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম রাজীবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিতে দেখা যেত। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা নেতারা ভারতে পালিয়ে গেলেও নাঈম এলাকা ছেড়ে সাভারের রাজাশন এলাকায় পরিচয় গোপন করে বসবাস শুরু করেন।
চতুর এই ক্যাডার আত্মগোপনে থেকেও নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক খোলস পাল্টে নিজেকে বিএনপি কর্মী হিসেবে জাহির করার চেষ্টাও করেন তিনি। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাতে সাভারের দক্ষিণ রাজাশন এলাকায় ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতারে তৎপর হয়ে ওঠে। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, বাদশার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা থাকায় তাকে ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।