১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২৮:৩৮ অপরাহ্ন


বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার, এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস
সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৯ ১৩:০৭:১০
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার, এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস


আজ সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে ১১৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে।

তেলের বাজারে অস্থিরতা

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দামে বড় লাফ দেখা গেছে। ওয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্যমতে:

ব্রেন্ট ক্রুড: ২২% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার।

WTI ক্রুড: ১১৩.৪০ ডলার।

মারাবান ক্রুড: ১২০ ডলার।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এবং ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এভাবে চললে মার্চের শেষ নাগাদ তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন

তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার প্রধান সূচকগুলোর ব্যাপক পতন হয়েছে:

জাপানের নিক্কেই ২২৫: ৭% পতন।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি: ৮% পতন (আতঙ্কিত বিক্রি ঠেকাতে সাময়িক লেনদেন বন্ধ বা সার্কিট ব্রেকার কার্যকর করা হয়)।

অস্ট্রেলিয়ার ASX ২০০: ৪% পতন।

হংকংয়ের হ্যাংসেং: ৩% পতন।

ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব:

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা এবং গত দুদিনে দেশটির তেল ডিপোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা সংকটকে আরও জটিল করেছে।

আইএমএফ-এর মতে, তেলের দাম প্রতি ১০% বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.১৫% কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে ০.৪%। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় 'সামান্য ত্যাগ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে মূলত ইসরায়েল।