নিজেদের বিচ্ছিন্ন ছিটমহল নাখচিভানে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আজারবাইজান। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গুরুতর অভিযোগ করা হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই খবরটি বিশ্বজুড়ে প্রচার করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও ককেশাস অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।
আজারবাইজানের দাবি অনুযায়ী, নাখচিভানের একটি বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয় এবং অন্যটি একটি স্কুলের কাছে এসে পড়ে। জনবহুল এলাকায় এই ড্রোন বিস্ফোরণে অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। দেশটির সরকার এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত উসকানি হিসেবে দেখছে। আজারবাইজান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যে কোনো সময় প্রয়োজনীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
ঘটনার পরপরই কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আজারবাইজান সরকার ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর কড়া প্রতিবাদ জানায়। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিবেশী দেশের ওপর এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থি। এই কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের ডামাডোলে ইরানের এই হামলাগুলো এখন অনিয়মিতভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে নাখচিভান আজারবাইজানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। এটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ছিটমহল, যা আজারবাইজানের মোট আয়তনের প্রায় ৬ শতাংশ। মজার ব্যাপার হলো, আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ড এবং এই ছিটমহলের মাঝে আর্মেনিয়ার প্রায় ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত এলাকা রয়েছে। নাখচিভানের একদিকে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক এবং অন্যদিকে ইরানের সীমান্ত থাকায় এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।