১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৯:২৫ অপরাহ্ন


আমার এক ছেলে জেলে, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে: ফজলুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৪ ১৭:১১:৩১
আমার এক ছেলে জেলে, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে: ফজলুর রহমান ছবি: সংগৃহীত


মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের কারাবন্দী থাকা এবং দলীয় পদ স্থগিতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। সোমবার (৩ মার্চ) বিকেলে মিঠামইন অডিটোরিয়ামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি জাহাঙ্গীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

বক্তব্যের শুরুতেই সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীরের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর জেলে থাকাটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। গত ২০ বছর ধরে যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন, জাহাঙ্গীর তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। পৈতৃক জমিজমা বিসর্জন দিয়ে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে দলের জন্য কাজ করেছে। জাহাঙ্গীরের অনুপস্থিতি তাকে মানসিকভাবে ব্যথিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমার এক ছেলে জেলে, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে। জাহাঙ্গীর এখানে থাকলে আমি অনেক আনন্দ নিয়ে কথা বলতে পারতাম।"

তবে আবেগ প্রকাশ করলেও দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু দল তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, সেহেতু নিশ্চিতভাবেই সে কোনো ভুল করেছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং ভুলের শাস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবুও ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে জাহাঙ্গীরের দ্রুত মুক্তি কামনা করেন তিনি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন এবং সে যেন দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বের হয়ে আসতে পারে, সেই চেষ্টা করবেন।"

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় সরকারি ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ স্থগিত করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন এবং এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।