১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৯:৩৯ অপরাহ্ন


আলভীর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল ইকরার পরিবার এবং বন্ধুদের
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০১ ১৫:৪৩:৩৭
আলভীর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল ইকরার পরিবার এবং বন্ধুদের


ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর সাজানো সংসারে যেন হঠাৎ করেই প্রলয় নেমে এলো। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসভবনে আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পুরো বিনোদন অঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি 'আত্মহত্যা' হলেও ইকরার পরিবার ও বন্ধুদের দাবি—এই মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ মানসিক যন্ত্রণা ও পরকীয়ার করুণ ইতিহাস।

ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আজ রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে এবং তখনই হয়তো তিনি এই বিষয়ে নিজের মুখ খুলবেন। তবে ইকরার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অভিযোগের আঙুল সরাসরি আলভীর দিকে। তাদের দাবি, অন্য একজন অভিনয়শিল্পী সহকর্মীর সঙ্গে আলভীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সংসারে অশান্তি চরমে উঠেছিল। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই হয়তো ইকরা চরম পথ বেছে নিয়েছেন। তবে ইকরার দীর্ঘ ১১ বছরের বান্ধবী সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে ইকরা নিজে থেকে জীবন দিতে পারেন।

সামিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তাঁদের বান্ধবীদের ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিত চ্যাটিং চলছিল। সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটেও ইকরা মেসেজ করেছিলেন যে, তিনি নেপাল গিয়ে সেই 'তৃতীয় ব্যক্তি'র মুখোমুখি হবেন। বান্ধবীরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সন্ধ্যায় ইকরার বাসাতেই ইফতারের দাওয়াত ছিল সবার। কিন্তু দুপুর গড়াতেই সব ওলটপালট হয়ে যায়। জানা গেছে, ঘটনার সময় ইকরা ও আলভীর সন্তান রিজিক বাসাতেই ছিল। আলভীর সহকারী অর্কর ভাষ্যমতে, আলভী নিজেই ফোন করে তাঁকে বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন যে 'ম্যাডাম পাগলামি করছেন'। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে আলভীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন ইকরা। সেই ফোনে এমন কী কথা হয়েছিল যা ইকরা সহ্য করতে পারেননি, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বন্ধুরা বলছেন, ইকরা অত্যন্ত শক্ত মনের মেয়ে ছিলেন। তিনি আলভীকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও করছিলেন। সন্তানকে কার কাছে রাখবেন—এমন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যিনি আলোচনা করছিলেন, তিনি হঠাৎ কেন আত্মহত্যা করবেন, তা তাঁদের কাছে এক বড় রহস্য। আজ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ইকরার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং আলভীর জবানবন্দিই হয়তো পরিষ্কার করবে—এটি কি কেবলই আবেগতাড়িত আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো প্ররোচনা। আপাতত একরাশ ধোঁয়াশা আর শোকের ছায়া ঘিরেই শেষ হলো ইকরার বর্ণিল জীবনের গল্প।