১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:৫৯:৩৩ পূর্বাহ্ন


২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত ৬০০ এসআই-সার্জেন্ট চাকরিতে ফিরছেন, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এসজি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-২৩ ১৬:৩৫:১৯
২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত ৬০০ এসআই-সার্জেন্ট চাকরিতে ফিরছেন, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ


দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষা আর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেতে যাচ্ছেন ২০০৬ সালে নিয়োগ বাতিল হওয়া পুলিশের প্রায় সাড়ে ৬০০ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও সার্জেন্ট। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘোষণা দেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা তথাকথিত দলীয় নিয়োগের অভিযোগ এনে যাদের চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল, তারা অবশ্যই তাদের হারানো চাকরি ফিরে পাবেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে সরকারের শেষ সময়ে এই কর্মকর্তারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। এরপর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই কর্মকর্তারা মানবেতর জীবন যাপন করেছেন এবং আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন। শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তারা কাজে ফিরতে পারেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আদালতের সেই রায় অনুসারেই তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। যদিও ফাইলটি সেখানে পেন্ডিং অবস্থায় ছিল এবং শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি, তবে কেন তা আটকে ছিল সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা অবশ্যই নিয়োগ পাবেন এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন না।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের জনবল সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে ২,৭০১টি কনস্টেবল পদ খালি রয়েছে এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই শূন্যপদগুলোতে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি পুলিশের কর্মপরিবেশ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে পুলিশের পেশাগত কাজে কেউ অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে কিংবা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আপস ছাড়াই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই দশকের দীর্ঘ বঞ্চনা শেষে এই ৬০০ কর্মকর্তার পুনর্নিয়োগের ঘোষণা পুলিশ বাহিনীর ভেতরে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রশমনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।