নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘটনায় নাটকীয় মোড় নিয়েছে। 'সচেতন নাগরিক সমাজ' (সিসিএস)-এর সদস্যসচিব ও আলোচিত নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা বিতর্কিত বক্তব্যটি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নয়।
ঘটনার নেপথ্যে: সিসিএস-এর সংবাদ সম্মেলন
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে 'সচেতন নাগরিক সমাজ' (সিসিএস)-এর ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়। সেখানে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পাঠ করেন তনি। ওই সময় মঞ্চে তাঁকে সংগঠনের সদস্যসচিব এবং নীলা ইসরাফিলকে আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার দুদিন পর আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তনি দাবি করেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন:
"সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর সরাসরি অনুরোধে এবং তাঁরই স্বাক্ষরিত লিখিত স্মারকলিপিটি আমি কেবল পাঠ করেছি। এই বক্তব্যের রচয়িতা আমি নই।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। এটি ছিল স্রেফ সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্পিত একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন।
প্রাণনাশের হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন তনি। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান (শুনেরাহ) বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানোসহ কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তনি বলেন, "সংগঠিতভাবে অনলাইন বুলিং ও ট্রলিংয়ের মাধ্যমে আমার পেশাগত সুনাম ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।"
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
হুমকি ও হয়রানির প্রেক্ষিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো:
জিডি ও মামলা: যারা সরাসরি হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন: অনলাইনে মানহানিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক স্পর্শকাতর বিষয়ে আকস্মিক সম্পৃক্ততা এবং পরবর্তীতে তা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা তনির ক্যারিয়ারে নতুন এক বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে তনির এই ব্যাখ্যার পর সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।