১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন


ডায়াবেটিস রোগীর ইফতারে খেজুর: কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-২২ ১৭:৩৪:০০
ডায়াবেটিস রোগীর ইফতারে খেজুর: কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?


স্বাস্থ্য প্রতিবেদক | ঢাকা ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

রমজানে ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খেজুর। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ও তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে খেজুরের জুড়ি নেই। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই মিষ্টি ফলটি খাওয়া কতটুকু নিরাপদ, তা নিয়ে প্রায়ই সংশয় দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা ইফতারে খেজুর খেতে পারবেন, তবে তা হতে হবে অত্যন্ত পরিমিত এবং পরিকল্পিত উপায়ে।

খেজুরে পুষ্টি ও ডায়াবেটিস

খেজুর একটি উচ্চ শর্করা ও ক্যালরি সমৃদ্ধ ফল হলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) মাঝারি থেকে কমের মধ্যে থাকে। এর অর্থ হলো, পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি রক্তে শর্করা বা সুগার খুব দ্রুত বাড়িয়ে দেয় না। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা শর্করা শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কতটি খেজুর খাওয়া নিরাপদ?

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও পুষ্টিবিদদের মতে, একজন ডায়াবেটিস রোগী যাঁর সুগার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তিনি ইফতারে ১ থেকে ২টি মাঝারি আকারের খেজুর খেতে পারেন। তবে যাদের সুগার অনিয়ন্ত্রিত, তাদের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের কথা বলেছেন:

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: একসঙ্গে ৩-৪টির বেশি খেজুর খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই একটি দিয়ে ইফতার শুরু করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

চিনিযুক্ত খাবার পরিহার: যদি ইফতারে খেজুর খাওয়া হয়, তবে ওই সময়ে অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন—চিনির শরবত, জিলাপি বা হালুয়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।

প্রোটিনের সাথে সমন্বয়: খেজুরের সাথে কিছু বাদাম বা চিঁড়া-দই খেলে শর্করার শোষণ আরও ধীর হয়, যা সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, "ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইফতারের সময়টি খুব সংবেদনশীল। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীর দ্রুত গ্লুকোজ শোষণ করে। তাই ১টি খেজুর এবং প্রচুর পানি দিয়ে রোজা ভাঙা ভালো। এরপর আঁশযুক্ত খাবার যেমন—সবজি বা ছোলা খাওয়া উচিত।"

তবে যাদের কিডনি জটিলতা রয়েছে বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে খেজুর এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ খেজুরে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে।

উপসংহার: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খেজুর পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, বরং পরিমিতিই এখানে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। নিয়মিত সুগার মেপে এবং সুষম খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে একজন ডায়াবেটিস রোগী অনায়াসেই রমজানের রোজা পালন করতে পারেন।