বিতর্ক ও আলোচিত বিতর্কের ছায়া যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না জনপ্রিয় ভারতীয় র্যাপার ও সুরকার ইয়ো ইয়ো হানি সিংয়ের। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে একটি সরাসরি কনসার্টে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার কারণে নতুন করে মারাত্মক আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন এই সংগীত তারকা। বলিউডভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর মহারাষ্ট্র পুলিশ বিভাগের সাইবার সেলে হাজির হয়ে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়ার কথা ছিল তাঁর।
তবে নির্ধারিত দিনেও সাইবার সেলের তলবে সাড়া না দিয়ে জেরা এড়িয়ে গেছেন হানি সিং। আইনি কর্মকর্তাদের তিনি জানিয়েছেন, সশরীরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য তাঁর আরও কিছুদিন অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।
ঠিক কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত? সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে দিল্লির হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে অনুষ্ঠিত নানকু এবং করুণের এক যৌথ কনসার্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন হানি সিং। সেখান থেকে তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্যসংবলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে অত্যন্ত অশ্রাব্য ও আপত্তিকর ভাষার প্রয়োগ করে উপস্থিত তরুণ শ্রোতা-অনুরাগীদের উদ্দ্যেশ্যে চরম অনভিপ্রেত পরামর্শ দিতে দেখা যায় তাঁকে।
উক্ত অশালীন বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। আইনি পদক্ষেপের মুখমুখী হয়ে অবশ্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন র্যাপার। এক প্রতিক্রিয়ায় হানি সিং বলেন, "কাউকে আঘাত করা বা কারও অনুভূতিতে আঘাত হানার কোনো ইচ্ছাকৃত উদ্দেশ্য আমার ছিল না। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। ভবিষ্যতে কথা বলার সময় স্থানের মর্যাদা বজায় রেখে ভাষার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখব এবং আরও সচেতন ভূমিকা পালন করব।"
তবে কেবল এই ঘটনাটিই নয়, হানি সিংয়ের ঝুলিতে রয়েছে আরও আইনি বিতর্ক। চলতি বছরের গত মে মাসে তাঁর প্রকাশিত গানের কথায় চরম ‘নারীবিদ্বেষী’ শব্দ প্রয়োগের অভিযোগে দক্ষিণপন্থী সংগঠন 'হিন্দু শক্তি দল'-এর চরম তোপের মুখে পড়েন তিনি। উক্ত মামলাটি বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যেই সাইবার সেলের সমন এড়ানোর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।