‘ভারতে শান্তি নেই’, সঞ্জয়ের মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক, মুখ খুললেন অভিনেতা!


বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 06-10-2026

‘ভারতে শান্তি নেই’, সঞ্জয়ের মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক, মুখ খুললেন অভিনেতা!
টক শোতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ রচনার জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে ‘মুন্না ভাই’ তারকা; ভিডিও বার্তায় হাতজোড় করে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা ও ব্যাখ্যা প্রকাশের ঘটনা

       গান্ধীজয়ন্তীর এক বিশেষ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে ভারতের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন বলিউডের প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিশিষ্ট সঞ্চালক শেখর সুমনের আলোচিত টক শো ‘শেখর টুনাইট’-এ ভারতীয়দের চরম অতিথিপরায়ণতার প্রশংসা করে সঞ্জয় বলেছিলেন—ভারতীয়রা অত্যন্ত উদার হলেও দেশে বর্তমানে আর আগের মতো সেই ‘শান্তি’ অনুভব করা যায় না। আর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতেই তোলপাড় শুরু হয় বিশ্বজুড়ে বলিউড অনুরাগী ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

পরিস্থিতির বহুগুণ অবনতি ঘটে যখন অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক পর্বে সঞ্জয় তাঁর কালজয়ী ‘মুন্না ভাই’ চরিত্রের আদলে কাল্পনিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অভিনয় করে দেশের মহাত্মা গান্ধী, বর্তমান রাজনীতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কৌতুক পরিবেশন করেন।

মুহূর্তের মধ্যে বিতর্ক উসকে উঠলে প্রথমে লিখিত বিবৃতি এবং পরবর্তীতে (৫ অক্টোবর) অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যমে হাতজোড় করে বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করতে বাধ্য হন সঞ্জয় দত্ত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অনুষ্ঠানে তাঁর বলা কথাগুলো কোনোভাবেই তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বা অবস্থান নয়; বরং সম্পূর্ণ অংশটি ছিল স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্যনির্ভর একটি বিনোদনমূলক ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা মাত্র।

গান্ধীজয়ন্তীর উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচনার এক পর্যায়ে সঞ্জয় দত্ত বলেছিলেন, "দেশের মানুষ অত্যন্ত ভালো ও পরোপকারী। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, আমাদের দেশে আগের সেই শান্তি ও সম্প্রীতির অভাব দেখা দিয়েছে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন সেই পুরোনো শান্তিময় দিনগুলো আবার দেশে ফিরে আসে।" অভিনেতার এই মন্তব্যের পরপরই নেটদুনিয়ায় প্রশ্ন ওঠে—'আগের দিন' বলতে তিনি ঠিক কোন সময়কে ইঙ্গিত করছেন? ভারতের বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থাকে কটাক্ষ করতেই কি তিনি এমন কথা বললেন?

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন তিনি গান্ধীজির 'তিন বানর'-এর ধারণাকে বদলে দিয়ে চতুর্থ এক বানরের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন—যে অন্যায় দেখলে তা প্রতিবাদ করবে। ‘মুন্না ভাই’ সিরিজের মানবিক ‘গান্ধীগিরি’র বার্তা তুলে ধরতে চাইলেও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানটি নিমেষেই এক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক রূপ নেয়।

ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই শাসকদল বিজেপির মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদ সদস্য (MLC) পরিনয় ফুকে সঞ্জয় দত্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন—"ভারতে যদি শান্তি না পান, তবে সঞ্জয় দত্তের অবিলম্বে পাকিস্তানে কিংবা ইয়েরওয়াড়া জেলে চলে যাওয়া উচিত।" অন্যদিকে, ক্ষমতাসীনদের বিরোধিতায় নেমে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা নানা পাটোলে সঞ্জয়ের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, "দেশের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সঞ্জয় দত্তের মতো একজন মহাতারকার উদ্বেগ প্রকাশই প্রমাণ করে দেশের সাধারণ মানুষের বর্তমান অবস্থা কতটা নাজুক।"

রাজনৈতিক জলঘোলা চূড়ান্ত রূপ নিলে ৪ ও ৫ অক্টোবর পরপর দুই দিন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সঞ্জয়। হাতজোড় করা ভিডিও বার্তায় আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেতা বলেন, "কাউকে আঘাত করা বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। পুরো পর্বটি স্ক্রিপ্টে লেখা অনুযায়ী আমি কেবল অভিনয় করছিলাম। এটি আমার ব্যক্তিগত চিন্তা নয়। আশা করি দর্শকরা ভুল না বুঝে বিনোদনের অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে দেখবেন।"

বিতর্কের মুখে সঞ্জয়ের পাশে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন সঞ্চালক শেখর সুমনও। এক বার্তায় শেখর সুমন বলেন, "সঞ্জয় দত্ত ভারতের একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক। ব্যঙ্গাত্মক রসিকতাকে রাজনৈতিক রঙ চড়িয়ে সঞ্জয়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।"


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com