দীর্ঘ ও টানা যুদ্ধে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্র বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরেছেন হলিউডের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ও আন্তর্জাতিক মানবিক অধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ভূ-গ্রহ অনুসন্ধানকারী প্ল্যাটফর্ম ‘গুগল আর্থ’ (Google Earth)-এর স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ‘আগে ও পরে’র আলোকচিত্র শেয়ার করে গাজার ধ্বংসস্তূপের চিত্র সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ ও স্পর্শকাতর বার্তায় অ্যাঞ্জেলিনা জোলি লিখেছেন, "এখন যে কেউ গুগল আর্থ খুললেই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের মাধ্যমে মূলত কী ঘটানো হয়েছে, তার বাস্তব প্রমাণ চোখের সামনে দেখতে পাবেন। উপগ্রহের মাধ্যমে সংগৃহীত স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে সংঘাতের আগের সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং বর্তমানের সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত পরিস্থিতির চরম বৈপরীত্য ও পার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।"
জোলির ভাষ্যমতে, বোমাবর্ষণের ফলে সমগ্র গাজার বিস্তৃত আবাসন অঞ্চল ও জনপদ এখন নিঃশ্বাসের জায়গায় শুধুই ইট-পাথরের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হাসপাতাল, যাতায়াতের সড়ক এবং মৌলিক নাগরিক সেবা—পয়োনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও হয় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, না হয় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকারকর্মী আরও জানান, বর্তমানে গাজা উপত্যকায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার অসহায় মানুষের জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণের প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ও জরুরি খাদ্য সাহায্য, ওষুধপত্র এবং সাময়িক মাথার ওপর আশ্রয়ের উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এখনো নানা ধরনের কৃত্রিম রাজনৈতিক বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ (Middle East East) জোলির এই মানবিক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি বিস্তারিত বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শরণার্থী ও মানবিক সংকট নিরসনে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা 'ইউএনএইচসিআর' (UNHCR)-এর আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিরলস দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশক সংস্থাটির হাই কমিশনারের ‘বিশেষ দূত’ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই তারকা।