নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, ক্যাম্পাসের দিনরাত্রি, গভীর বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া, নিখাদ প্রেম এবং তৎকালীন এক আলোচিত সত্য ঘটনা নিয়ে রূপালী পর্দায় আসছে নতুন চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। ‘সেকালের গল্প, একালের সিনেমা’—এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আমেজে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চুড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সিনেমাটি।
‘ফিল্ম ম্যানিয়া’ প্রযোজিত এই বিশেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির মূল গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা মুনতাসির আকিব।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে অবস্থিত ‘ফিল্ম ম্যানিয়া’র কর্পোরেট কার্যালয়ে এক জমকালো ও ঘটা করে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘চিরকুট’ সিনেমার অফিসিয়াল ফার্স্ট লুক পোস্টার উন্মোচন করা হয়। এই শুভ পোস্টার উন্মোচনের মধ্য দিয়েই সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
পোস্টার উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি ও প্রখ্যাত পরিচালক খোরশেদ আলম খসরু এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও প্রথীতযশা লেখক লুৎফর হাসান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার পরিচালক মুনতাসির আকিব, জনপ্রিয় অভিনেতা শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, বিশিষ্ট কৌতুক অভিনেতা সুমন পাটোয়ারী, সিয়াম নাসির, মাহিরা হাসান, সাদি খান, শামীম আহসান, ইমু, গীতিকার ও সংগীতশিল্পী স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি এবং বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক অভিষেক ভট্টাচার্যসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতাঙ্গনের উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ।
নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিচিত্র কাস্টিং ‘চিরকুট’ চলচ্চিত্রের পুরো পটভূমি নির্মিত হয়েছে নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে (রাবি) কেন্দ্র করে। তখনকার ক্যাম্পাস জীবন, তরুণ শিক্ষার্থীদের চালচলন, আবেগ-অনুভূতি এবং একটি ঐতিহাসিক সত্য ঘটনার স্মৃতিকে ভিত্তি করেই সিনেমাটির গল্প ডালপালা মেলেছে। তৎকালীন এক সোনাঝরা সময়কে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ দর্শকদের সামনে জীবন্ত করে তুলে ধরাই এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য।
চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রধান শক্তি এর বিশাল ও বৈচিত্র্যময় অভিনয়শিল্পীর দল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান, ইব্রাহিম সুজনসহ আরও অনেকে।
শুধু পেশাদার অভিনয়শিল্পীরাই নন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বাস্তব নিখুঁত আবহ ফুটিয়ে তুলতে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন সাধারণ শিক্ষার্থীকে। এতে করে পর্দায় তৎকালীন রাবি ক্যাম্পাসের আসল রূপ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ বড় পরিসরে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
চারটি গান ও সুরের আবহ ‘চিরকুট’-এর অন্যতম বড় আকর্ষণ এর সুরের ভুবন। সিনেমাটিতে মোট চারটি ভিন্ন স্বাদের গান রয়েছে। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রেহান রাসুল, মাশা, স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি, মেহেদী সরকার, রাকিব ও সাবরিনা পড়শী ঐশী।
গানের কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান, পুলক অনিল, স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি ও মেহেদী সরকার। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন শান্ত, অভিষেক ভট্টাচার্য, খৈয়াম সানু সন্ধি এবং মেহেদী সরকার।
পর্দায় নব্বইয়ের দশক ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ বর্তমান আধুনিক সময়ের ফ্রেমে দাঁড়িয়ে প্রায় তিন দশক আগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্দায় অবিকল পুনর্নির্মাণ করা নির্মাতার জন্য ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জিং কাজ। সে সময়ের পোশাক-আশাক, হেয়ারস্টাইল, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং জীবনযাপনের উপাদানগুলোকে নিখুঁতভাবে সমন্বয় করা হয়েছে।
সিনেমার নির্মাতা মুনতাসির আকিব বলেন, "নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটা এক হৃদয়স্পর্শী সত্য ঘটনা থেকেই মূলত ‘চিরকুট’-এর ভাবনার সূত্রপাত। তৎকালীন আবেগ ও পরিবেশকে বর্তমান সিনেমার উন্নত কারিগরি ভাষায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। দর্শক যেন কেবল একটি সিনেমা না দেখেন, বরং একটি নির্দিষ্ট সোনালী যুগে হারিয়ে যেতে পারেন—সেটাই আমাদের মূল প্রয়াস।"
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষে এখন পূজার উৎসবে শুভ মুক্তির প্রহর গুনছে ‘চিরকুট’। সেকালের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সত্য গল্প, চমৎকার গান ও বিশাল তারকা বহর নিয়ে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের মন জয় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।