আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ থেকে কার্যকর নতুন ১০ নিয়ম!


ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 01-10-2026

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ থেকে কার্যকর নতুন ১০ নিয়ম!
খেলার গতি বাড়ানো, স্টাম্পিং-ওভারথ্রো সহজীকরণ এবং গোলাপি বল নিয়ে আইসিসির যুগান্তকারী পরিবর্তন

        আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আমেজ ও খেলার গতি ত্বরান্বিত করতে হালনাগাদ করা হয়েছে 'প্লেয়িং কন্ডিশনস'। আজ ১ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) আইন সংশোধনের আলোকে একসঙ্গে নতুন ১০টি নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

১ অক্টোবর বা তার পর থেকে শুরু হওয়া সকল নতুন দ্বিপাক্ষিক ও বহুজাতিক সিরিজে নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে। তবে এর আগে থেকে চলমান সিরিজগুলো সম্পন্ন হবে পূর্বের পুরাতন ক্রিকেট আইনেই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কার্যকর হওয়া নতুন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ব্যাটারের সময় নষ্টে শাস্তি: উইকেট বা ক্রিজে ব্যাটার অযথা সময় নষ্ট করলে প্রথমবারের মতো মৌখিক সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার একই ভুলের জন্য দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। কিন্তু তৃতীয়বার বা পরবর্তীতে প্রতিবার সময় নষ্টের পুনরাবৃত্তি ঘটালে প্রতিপক্ষ ফিল্ডিং দলকে পেনাল্টি হিসেবে সরাসরি ৫ রান প্রদান করা হবে।

২. নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের বলের পরিমাপ সুনির্দিষ্টকরণ: এতদিন পুরুষদের ক্রিকেট বলের সুস্পষ্ট পরিমাপ থাকলেও নারী ও অনূর্ধ্ব-১৯/জুনিয়র ক্রিকেটে বল ব্যবহারে অস্পষ্টতা ছিল। নতুন নিয়মে পুরুষ, নারী ও জুনিয়র—এই তিন শ্রেণির ম্যাচেই ব্যবহারযোগ্য ক্রিকেট বলের সুনির্দিষ্ট মাপ ও ওজন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

৩. ওভারথ্রো’র নতুন ব্যাখ্যা: কেবল রানআউট করা কিংবা রান আটকানোর উদ্দেশ্যে স্টাম্পের দিকে সরাসরি বল ছোঁড়া বা ঠেলে দেওয়ার ঘটনাকে ‘ওভারথ্রো’ বলা হবে। কোনো ফিল্ডার বল নিয়ন্ত্রণে রাখা বা সতীর্থের কাছে পাস দেওয়ার চেষ্টা করার সময় হাতছাড়া হলে তা আর ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে না।

৪. বল ‘সেটলড’ নির্ধারনে আম্পায়ারকে পূর্ণ ক্ষমতা: ম্যাচের বিশেষ মুহূর্তে বা শেষ বলে ‘বল সেটলড’ (নিয়ন্ত্রণাধীন) হয়েছে কি না, তা চূড়ান্ত নির্ধারণ করার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে অন-ফিল্ড আম্পায়ারের এখতিয়ারে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বল পুরোপুরি সেটলড হতে বোলার বা উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে বল থাকার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

৫. রানআউট ও স্টাম্পিংয়ে স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ: উইকেট ভাঙার বা স্টাম্পিং করার সময় ফিল্ডারের হাতে বলের ওপর শতভাগ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। কেবল বল হাতে ছুঁয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাবশত স্টাম্প ভেঙে গেলে তা আউট বা বল গ্লাভসবন্দী বলে গণ্য হবে না।

৬. দিনের টেস্টেও গোলাপি বল ব্যবহারের সুবিধা: খারাপ আলোর কারণে টেস্ট ম্যাচ বারবার বন্ধ হওয়া ঠেকাত পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দল ম্যাচ শুরুর আগে যৌথ সম্মতি প্রকাশ করলে দিনের বেলাতেও লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বলে টেস্ট খেলা যাবে। তবে খেলা শুরুর পর মাঝে বলের রং পরিবর্তন করা যাবে না।

৭. দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে ওভার শেষ করার বাধ্যবাধকতা: টেস্ট বা দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে আগে খেলা সেখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হতো। কিন্তু এখন মাঠের পরিবেশ ও আলো ভালো থাকলে সেই ওভারের বাকি বলগুলো সম্পন্ন করেই কেবল দিনের খেলা শেষ করতে হবে।

৮. টি-টোয়েন্টিতে নির্দিষ্ট ১৫ মিনিটের বিরতি: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুটি ইনিংসের মধ্যবর্তী সময়সীমা এখন নির্দিষ্টভাবে ১৫ মিনিট করা হয়েছে। অবশ্য বৃষ্টি বা সময় অপচয়ের কারণে ম্যাচ সংক্ষিপ্ত হলে বিরতির সময়সীমা কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।

৯. ড্রিংকস বিরতিতে মাঠে কোচের প্রবেশের অনুমতি: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—উভয় ফরম্যাটের ড্রিংকস বিরতিতে এখন প্রধান কোচ বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি সরাসরি মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়াড়দের সাথে কৌশলগত আলোচনা করতে পারবেন।

১০. ওয়াইডের নতুন নিয়ম স্থায়ী অনুমোদন: ব্যাটার বল ডেলিভারির পূর্বে বা ডেলিভারির মুহূর্তে নিজের পজিশন পরিবর্তন করলে বোলারদের সুরক্ষায় ওয়াইডের যে পরীক্ষামূলক আইন আনা হয়েছিল, তা স্থায়ী রূপ পেল। এখন থেকে বোলার বল ডেলিভারির মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের যে অবস্থান থাকবে, সেটিকেই রেফারেন্স পয়েন্ট ধরে ওয়াইড লাইনের হিসাব করা হবে।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com