রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এবং ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক সমাধানের জোরালো তাগিদ দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমীর উল্লেখ করেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বরের হোপ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের সংঘর্ষ বাধে। এতে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হন। একই সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
নিজের সংসদীয় আসন কেন্দ্রিক এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, "মিরপুরের এই আসনটি রাজধানীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাঁদের অমূল্য ভোট দিয়ে আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। জনগণের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত যেকোনো বড় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আগে থেকে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি আরও সুসমন্বিত ও ভিন্নভাবে মানবিক প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।"
স্থানীয় সংসদ সদস্যকে না জানিয়ে এ ধরনের হুটকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে বিস্ময়কর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় আমারও সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমাকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হলে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে একটি উত্তম ও টেকসই পথ বের করা সম্ভব হতো, যা করা হয়নি।"
ফুটপাত দখল ও বাণিজ্যের আড়ালে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির চক্র নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি জানান, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় করে তাদের বসিয়েছে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের ঘাড়েই পড়ে।
উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার পূর্বে মানবিক দিক বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, "যেকোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে ফুটপাতের এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের স্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একতরফা ও বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই সিদ্ধান্তই সমস্যার প্রকৃত সমাধান দিতে পারে।"
সামাজিক শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "যেকোনো সমস্যার সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক—কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে একই সাথে এ কথা পরিষ্কার যে, কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
ভবিষ্যতে এলাকাভিত্তিক যেকোনো উন্নয়ন বা শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সাথে নিয়ে সমন্বিতভাবে গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।