সিনেমার পর্দায় কোনো স্পর্শকাতর বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা যেমন একজন শিল্পীর জন্য বিরাট পেশাদারি চ্যালেঞ্জ, ঠিক তেমনই চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে শুট করা সেই দৃশ্যগুলো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ও সমানভাবে তাড়া করে বেড়ায় অভিনেতাদের। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বহুল চর্চিত ‘পার্চড’ (Parched) চলচ্চিত্রের অন্তরঙ্গ দৃশ্য ইন্টারনেটে অনভিপ্রেতভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বেশ ভয় পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। এবার বহুল আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ (Lust Stories 3)-এ অভিনয় এবং এ জাতীয় দৃশ্যের গোপনীয়তা ও ফাঁস হওয়ার দীর্ঘমেয়াদী আশঙ্কা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে এবং অভিনেতা বিজয় বর্মা।
সম্প্রতি দেওয়া এক যৌথ সাক্ষাৎকারে রাধিকা আপ্তে জানান, কোনো সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্য হুট করে ফাঁস বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়াটা কোনোভাবেই একজন অভিনয়শিল্পীর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে এ জাতীয় অবাধ্য বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে অহেতুক দুশ্চিন্তা করে জীবনযাপন করা অর্থহীন। বরং নিজের কাজের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং পরিচালক ও প্রযোজক টিমের সততার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি, আর তারপর নিজের শতভাগ পেশাদারিত্ব দিয়ে কাজ শেষ করে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে হয়।
উল্লেখ্য, ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এ অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনেতা আলি ফজলের সঙ্গে অত্যন্ত গভীর ও স্পর্শকাতর এক অন্তরঙ্গ দৃশ্যে ক্যামেরা বন্দী হয়েছেন রাধিকা। পর্দায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য চিত্রায়নের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ভঙ্গিতে বলেন, "যাদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিই খারাপ, তাদের রুখতে আমরা আসলে কী করতে পারি? তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে তো অনুরোধ করা সম্ভব নয় যে এসব করবেন না। সত্যি বলতে, এই জায়গায় অভিনেতাদের কিছু করার থাকে না। তাই যেকোনো প্রজেক্টে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করার সময় আগে থেকেই মাথায় রাখতে হয় যে, এই দৃশ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার বা অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকেই যায়। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকিকে মেনে নিয়েই অভিনয়টা করতে হয়।"
অন্যদিকে, এর আগে ‘লাস্ট স্টোরিজ ২’-এর প্রখ্যাত নির্মাতা সুজয় ঘোষ পরিচালিত বিশেষ পর্বে নিজের তৎকালীন প্রেমিকা ও অভিনেত্রী তমন্না ভাটিয়ার সঙ্গে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করে তুমুল আলোচনায় এসেছিলেন অভিনেতা বিজয় বর্মা। পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে সেই দৃশ্যের কাটছাঁট অংশ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এ জাতীয় সেনসিটিভ দৃশ্যে অভিনয়ের আগে কিংবা পরে সম্ভাব্য ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া ও ট্রোলিং নিয়ে কীভাবে নিজের মনকে প্রস্তুত রাখেন, সে কৌশল শেয়ার করেছেন বিজয়।
বিজয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, "পর্দায় যখন এ জাতীয় সংবেদনশীল দৃশ্য শুট করা হয়, তখন দর্শক বা ট্রোলাররা এটিকে কীভাবে কাটছাঁট করে দেখবেন বা গ্রহণ করবেন, সেই অবচেতন ভাবনাটা শুরুতেই মাথা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে হয়। আমরা পেশাদার হিসেবে ভালো করেই জানি যে, এই ধরনের দৃশ্য শুটিং ফ্লোর বা রিলিজের পর নানান অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে; কারণ এটাই বর্তমান ডিজিটাল যুগের নির্মম বাস্তবতা। বেশ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের একদম বাইরে।"
বিজয় আরও যোগ করেন, "কিন্তু এই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাগুলোকে যদি আমি মাথার ভেতর সারাক্ষণ লালন করি, তবে অভিনেতা হিসেবে যে বৈচিত্র্যময় কাজগুলো আমি করতে চাই, তা কোনোদিনই করতে পারব না। অভিনয়ের ময়দানে নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ কিছু চেষ্টা করার সাহসটাই একসময় চিরতরে হারিয়ে ফেলব।"
দুই তারকার যৌথ মতে, চলচ্চিত্রের খাতিরে অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে ব্যক্তিগত অস্বস্তি কিংবা ইন্টারনেটে দৃশ্য ফাঁসের অনভিপ্রেত আশঙ্কা থাকলেও, সেই ভয়কে প্রধান করে দেখলে শিল্পীর কাজের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তাই এই মানসিক ঝুঁকিকে পেশার অংশ হিসেবে মেনে নিয়েই নিজেদের অভিনয়ে শতভাগ মনোযোগী থাকতে চান বিজয় বর্মা ও রাধিকা আপ্তে।