প্রায় দুই দশক আগে ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাড়া জাগানো ‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় পা রেখেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান। ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনীত সেই অভিষেক চলচ্চিত্রটি তাঁকে রাতারাতি দেশজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। পরবর্তীতে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও দর্শকমনে ‘জান্নাত’ ছবির প্রভাব ও জনপ্রিয়তাকে কখনও ছাপিয়ে যেতে পারেননি তিনি। তবে এই নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ বা আক্ষেপ নেই বলে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে স্পষ্ট জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
উক্ত সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সহ-অভিনেতা ইমরান হাশমির ব্যক্তিজীবন ও অভিনয় প্রতিভা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সোনাল চৌহান। দীর্ঘ পথচলার পর সম্প্রতি বহুল আলোচিত ‘আওয়ারাপন টু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবারও বড় পর্দা কাঁপাচ্ছেন ইমরান। দীর্ঘ দিন পর সহ-অভিনেতার এমন বিশাল ও আকাশচুম্বী সাফল্য দেখে নিজের উচ্ছ্বাস ও আনন্দের কথা প্রকাশ করেন ‘জান্নাত গার্ল’।
ইমরান হাশমির এই স্মরণীয় সাফল্য প্রসঙ্গে সোনাল বলেন, "ইমরানকে এমন দুর্দান্ত সাফল্য পেতে দেখে আমি ভেতর থেকে সত্যি খুব খুশি। কারণ এই সম্মান ও ভালোবাসা তাঁর বহু আগেই প্রাপ্য ছিল। আমি যখন জীবনের প্রথম প্রজেক্টে তাঁর সঙ্গে কাজ শুরু করি, তখন থেকেই বলে আসছি যে ইমরান হাশমি ছিলেন এই ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সবচেয়ে অবমূল্যায়িত (underrated) অভিনেতাদের একজন।"
নিজের ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিনের স্মৃতিচারণ করে সোনাল চৌহান আরও জানান, ইমরান চলচ্চিত্রে যেমন অভিনয় দেখিয়েছেন, তাতে তাঁর আরও অনেক বেশি স্বীকৃতি ও সম্মান পাওয়া উচিত ছিল—এমনটাই তিনি সবসময় মনে করতেন।
সোনাল চৌহান যোগ করেন, "আমি সবসময় বিশ্বাস করতাম ইমরান তাঁর প্রতিভার তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার যোগ্য। আর সময়ের পরিক্রমায় বছরের পর বছর ধরে তিনি কঠোর পরিশ্রমে সেটি অর্জন করে দেখিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর উপযুক্ত ও প্রাপ্য স্বীকৃতি পাচ্ছেন দেখে আমার ভীষণ ভালো লাগছে।"
সহ-অভিনেতার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "ইমরান এমন একজন মানুষ, যিনি মন থেকে এই সাফল্য পাওয়ার যোগ্য। তিনি কেবল অসাধারণ প্রতিভাবানই নন, বরং মানুষ হিসেবে চমৎকার, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও মার্জিত। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ভারতের সাধারণ দর্শকেরা তাঁকে মন থেকে ভালোবাসেন।"
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে সোনাল মন্তব্য করেন, ইমরান হাশমি যে ধরনের মেলোডি, থ্রিলার ও রোমান্টিক ধারার চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত ও প্রশংসিত, বলিউডে সেই বিশেষ জায়গাটি সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিজস্ব ও অনন্য, যা অন্য কারও পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।