বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক দিতে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন দিয়া মির্জা


বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 22-09-2026

বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক দিতে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন দিয়া মির্জা
‘ববি জাসুস’ বানাতে গিয়ে তীব্র অর্থসংকটে ব্যাংক ঋণ ও ব্যক্তিগত সম্পদ বাজি রাখার অভিজ্ঞতা শোনালেন অভিনেত্রী

     রূপালী পর্দার সফল অভিনেত্রী থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথটা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না দিয়া মির্জার জন্য। নিজের স্বপ্নের সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে একসময় বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি অর্থ জোগাতে বন্ধক রাখতে হয়েছিল নিজের কষ্টার্জিত প্রথম কেনা বাড়িটিও!

২০১৪ সালে নির্মিত আলোচিত নারীপ্রধান চলচ্চিত্র ‘ববি জাসুস’ প্রযোজনা করতে গিয়ে কীভাবে জীবনের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও মানসিক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই অজানা ও কঠিন অভিজ্ঞতার কথা খোলাসা করেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

২০০১ সালে কালজয়ী সিনেমা ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’-র মাধ্যমে বলিউডে পা রেখে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান দিয়া মির্জা। অভিনয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরির প্রায় এক দশক পর স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রযোজনায় নামেন তিনি। সেই ধারাক্রমেই ২০১৪ সালে নারী গোয়েন্দার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয় ‘ববি জাসুস’, যার নামভূমিকায় অভিনয়ের জন্য রাজি করানো হয়েছিল প্রখ্যাত অভিনেত্রী বিদ্যা বালানকে। স্ক্রিপ্ট প্রস্তুতের পাশাপাশি কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিল পুরো কলাকুশলী টিমও।

তবে বিপত্তি ঘটে শুটিং শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই একে একে প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ান মূল বিনিয়োগকারীরা, ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় সম্পূর্ণ সিনেমাটি। এক সাক্ষাৎকারে দিয়া জানান, নারী প্রযোজক হওয়ার কারণে তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে নানা কটু কথা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমনকি প্রযোজনায় আসার পর তাঁকে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে অভিনেত্রী হিসেবে তিনি আর কোনো নতুন কাজ পাবেন না এবং বাস্তবিকই তাঁর হাতের কাজ কমে এসেছিল।

সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে দিয়া বলেন, "আমি আমার নিজের উপার্জনে কেনা প্রথম বাড়িটি বন্ধক রেখেছিলাম। যে গল্পটা রূপালী পর্দায় বলতে চেয়েছিলাম, সেটি লেখা সম্পন্ন হয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো অসাধারণ একজন শিল্পী ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে গেলেন।"

কিন্তু কোনোভাবেই সিনেমাটি বন্ধ হতে দিতে চাননি দিয়া। তিনি সাহস করে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেন এবং বাড়ি বন্ধক রেখে ‘ববি জাসুস’-এর শুটিং শুরু করেন। তবে এই তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যেও একটি জায়গায় বিন্দুমাত্র আপস করেননি তিনি—আর তা হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র বিদ্যা বালানের চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিক।

দিয়া স্পষ্ট জানান, আর্থিক টানাপোড়েনের দোহাই দিয়ে বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমানোর কোনো অনুরোধ তিনি জানাননি। বরং চুক্তি অনুযায়ী পুরো অর্থই সম্মানের সঙ্গে পরিশোধ করেছিলেন। দিয়ার ভাষায়, "আমি বিদ্যাকে কোনোদিন পারিশ্রমিক কমাতে বলিনি। চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকাই দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারিশ্রমিকটা আমিই পরিশোধ করেছিলাম এবং এটা নিয়ে আমি আজও গর্বিত।"

দিয়ার মতে, একই ধরনের পরিশ্রমের কাজ কোনো পুরুষ অভিনেতা করলে তাঁকে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়; তাই নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ সম্মান ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা উচিত।

যদিও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর বক্স অফিসে ‘ববি জাসুস’ আশানুরূপ সাফল্য পায়নি, তবে পরবর্তী সময়ে ধীরগতির পদক্ষেপে নিজের সব আর্থিক ক্ষতি সামলে ওঠেন দিয়া মির্জা। ব্যাংকের যাবতীয় ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি নিজের বন্ধক রাখা বাড়িটিও ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হন তিনি। তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে অভিনেত্রী বলেন, "ছবিটি ঠিক যেভাবে বানাতে চেয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই বানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমি ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করেছি এবং বাড়ির বন্ধকও ছাড়িয়ে নিয়েছি।"


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com