বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘অস্কার’ বা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে লড়বে কোন সিনেমা, তা জানার জন্য অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক দিনের। ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ (আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র) বিভাগে বাংলাদেশের অফিসিয়াল প্রতিযোগী হওয়ার দৌড়ে জমা পড়েছে পাঁচটি ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত সিনেমা। এখন এই পাঁচ ছবির মধ্য থেকেই একটি সিনেমা বেছে নেওয়া হবে, যা বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবে।
অস্কারে পাঠানোর উদ্দেশ্যে জমা পড়া পাঁচটি সিনেমা হলো:
১. ‘মানুষের বাগান’ — নূরুল আলম আতিক
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আলাদা পাঁচটি গল্প ও জীবনের সুক্ষ্ম জটিলতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মানুষের পারস্পরিক মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক ও দূরত্বের নানা দিক এতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। সিনেমাটি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা ও পুরস্কার কুড়িয়েছে।
২. ‘রইদ’ — মেজবাউর রহমান সুমন
‘হাওয়া’খ্যাত প্রখ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র সাদু ও তার মানসিক সমস্যায় ভোগা স্ত্রী। তাঁদের কঠিন জীবনসংগ্রাম ও অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি। পরিচালক তাঁর মায়ের কাছে শোনা বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প থেকেই সিনেমাটির মূল প্রেরণা পেয়েছিলেন।
৩. ‘দম’ — রেদওয়ান রনি
এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই থ্রিলারধর্মী সিনেমায় আফগানিস্তানে জিম্মি হওয়া এক বাংলাদেশির অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে থাকার তীব্র মানসিক ও শারীরিক লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রধান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরি ও চঞ্চল চৌধুরী।
৪. ‘দেলুপি’ — মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম
খুলনার উপকূলীয় দেলুটি অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক বন্যা, নদীভাঙন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্থানীয় ক্ষমতার বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের সম্পর্কের নানা সমীকরণ উঠে এসেছে।
৫. ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ — মনিরুল আকাশ হক
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংস্কৃতি, র্যাগিংয়ের ভয়াবহতা, ছাত্ররাজনীতি এবং ক্ষমতার অনৈতিক চর্চাকে ব্ল্যাক কমেডি বা ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। একটি কাল্পনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে সিনেমার গল্প এগিয়েছে।
অস্কার বাংলাদেশ কমিটির সাত সদস্যের একটি শক্তিশালী জুরি বোর্ড জমা পড়া এই পাঁচটি সিনেমা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত একটি ছবি নির্বাচন করবে। গঠিত অস্কার কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জহিরুল ইসলাম। কমিটির অন্য সম্মানীয় সদস্যরা হলেন—সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, অপি করিম, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।