ভেনিসে পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলি নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি সংস্কৃতিমন্ত্রীর


বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 15-09-2026

ভেনিসে পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলি নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি সংস্কৃতিমন্ত্রীর
গাজায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রকে ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা’ আখ্যা দিলেন মিকি জোহার

       ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও যুদ্ধাপরাধ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (No Other Land / Naja) মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার। তথ্যচিত্রটির দুই ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোরের নাগরিকত্ব অবিলম্বে বাতিল করার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার চরম হুমকি দিয়েছেন তিনি।

গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিস্ফোরক বার্তায় তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য ও বানোয়াট’ বলে মন্তব্য করেন ইসরায়েলি মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চলচ্চিত্রটির পুরস্কার জয়কে ‘বিস্ময়কর ও হতাশাজনক’ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ তোলেন, বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষী গোষ্ঠীর প্রশংসা কুড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে এই নির্মাতারা নিজ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির অপপূরণীয় ক্ষতি করছেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, "সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে এসব নিন্দনীয় ও ধিকৃত নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব চিরতরে বাতিল করতে আমি অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।"

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র ‘নাজা’-তে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পরিচালিত বিধ্বংসী অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির বিতর্কিত ব্যবহারের চিত্র নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক নথি ও বিবরণ অনুযায়ী, তথ্যচিত্রটিতে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে এআই-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভেনিস উৎসবে তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার প্রদর্শনীর পর হল ভর্তি আন্তর্জাতিক দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে সমস্বরে করতালি দিয়ে এর প্রতি সমর্থন জানান। তথ্যচিত্রটিতে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর একাধিক বর্তমান ও সাবেক সদস্যের মুখোমুখি সাক্ষাৎকার সংযোজন করা হয়েছে, যারা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের এক গোপনীয় এআই ব্যবস্থার কার্যক্রম তুলে ধরে নির্মাতারা দাবি করেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত নিতে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুরস্কার জয়ের পর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম জানান, পশ্চিমা বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোকে ইসরায়েলের ওপর কার্যকর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে উৎসাহিত করাই তাঁদের এই সাহসী তথ্যচিত্রটির মূল রাজনৈতিক ও মানবিক উদ্দেশ্য।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com