প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিনয় ক্যারিয়ারে হিন্দি সিনেমার ‘শাহেনশাহ’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেও ৮৩ বছর বয়সে পৌঁছে জীবনের এক গভীর অনুশোচনার কথা প্রকাশ করলেন অমিতাভ বচ্চন। জীবনের এতগুলো বসন্ত পেরিয়ে এসেও কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে না পারাই নাকি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।
সম্প্রতি সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনে সোম থেকে শুক্রবার রাত ৯টায় প্রচারিত জনপ্রিয় কুইজ শোর ১৮তম সিজন ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC 18)-এর সেটে এক প্রতিযোগীর সাথে আলাপকালে জীবনের এই না-পাওয়া অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠান চলাকালে 'কৃতজ্ঞ' নামের এক প্রতিযোগী বিগ বি-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি অতীতে ফিরে গিয়ে জীবনের কোনো পুরোনো দিন পুনরায় যাপন করতে চান, নাকি কখনও অভিজ্ঞতা না নেওয়া সম্পূর্ণ নতুন কোনো দিনের স্বাদ নিতে চান?
সংগীতের প্রতি নিজের চিরন্তন ভালোবাসার কথা জানিয়ে অমিতাভ বলেন, "আমি সেই দিনটির অভিজ্ঞতা নিতে চাই, যেদিন আমি অবশেষে কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখব। সংগীত শেখার তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময়ের অভাবে তা শেখা হয়ে ওঠেনি। পেশাদার গায়ক, সংগীতশিল্পী ও সেতারবাদকেরা যখন এত সুন্দর সুর পরিবেশন করেন, তা শুনে আমার মনে কষ্ট হয়—কেন আমি কখনও সংগীত শিখলাম না!"
বাড়িতে বাদ্যযন্ত্রের সংগ্রহের কথা উল্লেখ করে অভিনেতা আরও যোগ করেন, "ঘরে সম্ভাব্য সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র আমি সংগ্রহ করে রেখেছি। এমনকি সেগুলো ফুল ও মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখি এই আশায় যে, কোনো একদিন হয়তো আমি এগুলোর সুর তুলতে পারব।" জীবনে বাদ্যযন্ত্রের সুর তুলতে না পারাকে নিজের ‘গভীর আক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এই কিংবদন্তি।
তবে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে না পারলেও চমৎকার কণ্ঠের জন্য দর্শকহৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা করে নিয়েছেন বিগ বি। ১৯৭৯ সালে ‘মি. নটবরলাল’ চলচ্চিত্রের বিখ্যাত ‘মে রে পাস আও মে রে দোস্তো’ গানের মাধ্যমে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাঁর। পরবর্তীতে ‘সিলসিলা’ ছবির ‘রং বরসে’ ও ‘নীলা আসমান’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’র ‘মাই নেম ইজ অ্যান্টনি গনসালভেস’ এবং ‘লাওয়ারিশ’ সিনেমার ‘মে রে অঙ্গনে মে’-র মতো অলটাইম হিট গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে আদনান সামির সাথে ‘কাভি নেহি’, ‘বাগবান’ সিনেমার ‘হোরি খেলে রঘুবীরা’, ‘কাহানি’র ‘একলা চলো রে’ এবং ‘১০২ নট আউট’ সিনেমার ‘বাডুম্বা’ গানগুলোর মাধ্যমে গায়ক হিসেবেও অনন্য সাফল্য কুড়িয়েছেন বিগ বি।