একসময় মিডিয়ার সামনে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই হাসতে হাসতে প্রশ্ন করতেন, ‘কী জন্য বিয়ে করব?’ কিংবা সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে বলতেন, ‘বিয়ে নিয়ে জাস্ট ভাবছি না।’ তবে অতীত ভাবনাকে পেছনে ফেলে টালিউড ও বিনোদন পাড়ায় এখন একটাই মুখরোচক আলোচনা—অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক শীর্ষ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকে পাহাড়ের কোলে সাতপাকে বাঁধা পড়তে পারেন এই তারকা। সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে উঠে এসেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম।
যদিও বিয়ের কালিম্পং সংযোগ কিংবা পাত্রের পরিচয় নিয়ে অভিনেত্রী নিজে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি, তবে টালিউডের অন্দরে এই খবর নিয়ে চরম কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিয়ের বিষয়ে পরিবার ও সমাজের চিরাচরিত নিয়মকে কোনোদিনই খুব একটা পাত্তা দেননি মিমি। ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে মায়ের বিয়ের চাপের কথা উঠতেই মিমি মজা করে বলেছিলেন, "আমার তো মোটে ২৮ বছর বয়স! এখনই কেন বিয়ে করতে হবে? আমার বিয়ে দেওয়ার এত ইচ্ছা থাকলে আপনাদের পত্রিকায় পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন দিন না!" সেসময় নিজের কাজ ও স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
মিমি চক্রবর্তীর প্রেমজীবনের কথা উঠলে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নাম স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে। একসময় তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে খোলা খাতা হলেও, পরবর্তীতে তাঁদের বিচ্ছেদ ব্যাপকভাবে চর্চিত হয়। সম্পর্কের সেই অধ্যায় চুকে যাওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে পুরোপুরি আড়ালে নিয়ে যান মিমি। ২০২৩ সালের শেষদিকেও টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, "আমি এখন কারও সাথে প্রেমও করি না, ফলে বিয়ে কী করে করব? এখন বিয়েটা আমার কাছে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।"
২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘প্রলয়’, ‘বুনো হাঁস’ এবং জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গানের ওপারে’-র মাধ্যমে তারকাখ্যাতি পান মিমি। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতেও সফলতার সাথে কাজ করেছেন। নিজের মতে পথ চলা এই অভিনেত্রী বারবার প্রমাণ করেছেন সম্পর্কের চেয়ে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও কাজই তাঁর কাছে মুখ্য।
তবে অতি সম্প্রতি আনন্দবাজার ডট কম ও সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের শেষভাগে কালিম্পংয়ের রূপকথার মতো এক পাহাড়ি রিসোর্টে মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের আসর বসতে পারে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার এক এক্সক্লুসিভ তথ্যে পাত্র হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দকে সবসময় প্রাধান্য দেওয়া মিমি চক্রবর্তী কি সত্যিই এবার নিজের পুরোনো অবস্থান বদলে নতুন জীবনে পা রাখছেন, নাকি এটি কেবলই হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো আরেকটি রঙিন গুঞ্জন—তা জানার জন্য মিমি চক্রবর্তীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে তাঁর লাখো ভক্ত অনুরাগী।