বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার পথপ্রদর্শক এবং বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কাজের সীমানা কেবল এই পৃথিবীর ক্যানভাসেই সীমাবদ্ধ নয়। সৌরজগতের সবকটি গ্রহের মধ্যে ক্ষুদ্রতম গ্রহ ‘বুধ’-এর (Mercury) বুকে অবস্থিত একটি বিশালাকার খাদ বা ক্রেটারের নাম রাখা হয়েছে এই মহান শিল্পীর নামে। বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় থাকা এই শিল্পীর সৃষ্টি ও স্মৃতি এভাবেই স্থায়ী রূপ নিয়েছে মহাশূন্যের বুকে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘের (International Astronomical Union - IAU) দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, বুধ গ্রহের উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত ১১০ কিলোমিটার (প্রায় ৬৮ মাইল) ব্যাসবিশিষ্ট একটি বিশালাকার খাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয়েছে ‘আবেদিন’ (Abedin)। ২০০৮ সালের ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামকরণের অনুমোদন প্রদান করে।
মহাকাশ বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, বুধ গ্রহের কোনো ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বা খাদের নামকরণ করার ক্ষেত্রে বিশ্বের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, কবি, লেখক ও সঙ্গীতশিল্পীদের অমর অবদানকে শ্রদ্ধা জানানোর রীতি রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়, মার্কিন মহাকাশযান ‘মেসেঞ্জার’ (MESSENGER)-এর প্রথম ফ্লাইবাই থেকে সংগৃহীত আলোকচিত্র ও ভৌগোলিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১৯৪৩ সালের বিখ্যাত মন্বন্তরের চিত্রমালা এঁকে বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামে এই স্থানটির নামকরণ করা হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বুধ গ্রহের ৩৩.৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৬.২ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত এই ‘আবেদিন’ খাদটির গঠনশৈলী অত্যন্ত অনন্য। খাদটির তলদেশ অত্যন্ত মসৃণ এবং এর কেন্দ্রস্থলে একটি জটিল পর্বতচূড়া ও চারপাশে উজ্জ্বল বলয় রয়েছে, যা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
ক্যানভাসে যার তুলির আঁচড়ে একসময় ফুটে উঠেছিল মানুষের সংগ্রাম ও সৌন্দর্যের চিত্রমালা, আজ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বুকে কোটি কোটি মাইল দূরে সেই জয়নুল আবেদিনের নাম খোদাই হয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক।