জীবনের এক কঠিন সময়ে মন-মেজাজ ভালো করার তাগিদে বন্ধু মহুয়ার পরামর্শে থিয়েটারে পা রেখেছিলেন স্বর্ণালী চৈতী। উদ্দেশ্য ছিল শুধুই বিষাদ ভুলে একটু আনন্দে থাকা। কিন্তু সেই আকস্মিক থিয়েটারযাত্রাই যে তরুণ এই অভিনেত্রীর জীবন ও ক্যারিয়ারের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি।
মন খারাপ দূর করতে আসা সেই স্বর্ণালী চৈতী এখন ঢাকাই চলচ্চিত্রের উদীয়মান অন্যতম ব্যস্ত ও প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী। চার-চারটি সিনেমার কাজ শেষ করে এখন মুক্তির প্রহর গুনছেন তিনি। একই সাথে খুব শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ প্রযোজনার নতুন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ‘দ্য অরেঞ্জ’ (বাংলা নাম: ‘পথের বন্ধু’)।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়াশোনাকালীন বিভাগের শিক্ষক অভিনেতা শরীফ সিরাজের তত্ত্বাবধানে প্রথম অভিনয়ের মুখ দেখেছিলেন চৈতী। পরবর্তীতে থিয়েটার দল ‘তাড়ুয়া’-র সাথে যুক্ত হন। সেখানে কাজ করতে করতেই নিজেকে বড় পর্দায় দেখার ইচ্ছা জাগে তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণে নাট্য নির্দেশক বাকার বকুলের পরামর্শে ভর্তি হন ‘প্রাচ্যনাট অ্যাক্টিং স্কুল’-এ।
অভিনয়ের মৌলিক কৌশল শেখার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। অডিশন দিয়ে একে একে সুযোগ পান রতন পালের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা ‘অন্তরখোলা’, নূর ইমরান মিঠুর ‘কুরকাব’, এন রাশেদ চৌধুরীর ‘সখী রঙ্গমালা’ এবং রায়হান রাফীর তারকাখচিত সিনেমা ‘আন্ধার’-এ।
সম্প্রতি রায়হান রাফীর হরর ঘরানার সিনেমা ‘আন্ধার’-এর টিজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন চৈতী। এতে আফসানা মিমি, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, নাজিফা তুষির মতো অভিজ্ঞ তারকাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, বড় মাপের শিল্পীদের সান্নিধ্য ও পরামর্শ তাঁর নার্ভাসনেস কাটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চারটি সিনেমার কাজ গুছিয়ে আনার পর চৈতী এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বপন আহমেদের পরিচালনায় ‘দ্য অরেঞ্জ’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও ফ্রান্সের চারটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রে তাঁর সাথে আরও আছেন তৌকীর আহমেদ ও ফয়াজুল ইয়ামিন। ফ্রান্সে নিখোঁজ হওয়া এক বাংলাদেশী প্রবাসী বাবাকে তাঁর মেয়ের খুঁজে ফেরার গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমার শুটিং আগামী মাসে শুরু হতে যাচ্ছে।
চরিত্রের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপকে নিজের অনুপ্রেরণা মনে করেন চৈতী। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস থাকা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি অরুন্ধতী রায়ের ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ পড়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে বইটির চলচ্চিত্র রূপায়ন হলে পর্দায় অরুন্ধতী রায়ের চরিত্রে অভিনয় করার গোপন ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
বড় পর্দা বা ওটিটিতে কাজের ব্যস্ততা বাড়লেও যে মঞ্চের হাত ধরে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই থিয়েটারকে কখনো ছাড়বেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তরুণ এই অভিনেত্রী।