বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য ২ হাজার ৭৭ কোটি রুপি অনুমোদন করেছে ভারত সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি সম্প্রতি এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
এই মহাপরিকল্পনার আওতায় দার্জিলিং জেলার ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাগডোগরা-পানিট্যাঙ্কি-খড়িবাড়ি-গলগলিয়া অংশে সড়ক প্রসারণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। নতুন এই অবকাঠামো প্রকল্পে ৩টি বড় সেতু, ১টি ফ্লাইওভার, হাতি চলাচলের জন্য ৫টি বিশেষ আন্ডারপাস এবং উভয় পাশে সার্ভিস রোড অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
প্রকল্পটি নেপাল সীমান্তের গলগলিয়া থেকে শুরু হয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরে এনএইচ-২৭ মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রে থাকা বাগডোগরা বিমানবন্দরে বর্তমানে ধারণক্ষমতা বাড়াতে একটি নতুন গ্রিন টার্মিনাল ভবন ও উড়োজাহাজ পার্কিং সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে।
ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মূল মাধ্যম এই শিলিগুড়ি করিডোর। মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি জানান, এই প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য বহুগুণ সহজ করবে। এটি স্থানীয় পর্যায়ে চা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে গতি আনার পাশাপাশি তীব্র যানজট নিরসন করবে।
দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্টা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন, মহাসড়কটি ‘এশিয়ান হাইওয়ে ২’ (এএইচ২)-এর অংশ হিসেবে ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ফুলবাড়ীকে যুক্তকারী ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক করিডোরকে আরও শক্তিশালী করবে।
এর বাইরেও কৌশলগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে শিলিগুড়ি করিডোরে একটি ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেললাইন, চার লেনের রেল ট্র্যাকিং এবং শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডোর নির্মাণের বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ভারত।