দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের শারীরিক অসুস্থতা ও উন্নত চিকিৎসার পর অবশেষে জাতীয় সংসদে যোগ দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হুইলচেয়ারে বসে সংসদে উপস্থিত হয়ে তিনি এক আবেগঘন লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।
চিকিৎসা এখনও পুরোপুরি শেষ না হলেও কেবল সহকর্মীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সংসদীয় দায়িত্ববোধ থেকে চিকিৎসার মাঝপথেই তিনি অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
মির্জা আব্বাস যখন তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করছিলেন, তখন পুরো সংসদ কক্ষে এক পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি; সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের চলাচলের পথে হুইলচেয়ারে বসেই তিনি বক্তব্য দেন। এ সময় দলের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান তাঁর পাশে থেকে সহায়তা করেন।
প্রধান মন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধী দলের বহু সংসদ সদস্যকে এ সময় গভীর আবেগপ্লুত হতে দেখা যায়।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অসুস্থতার বিবরণ | নির্বাচনের পরপরই এক রাজনৈতিক সভায় গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। |
| চিকিৎসার বিবরণ | দীর্ঘ সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে বর্তমানে পুনর্বাসন চিকিৎসায় (Rehab) রয়েছেন। |
| রাজনৈতিক মাইলফলক | ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ দুই দশক বা ২০ বছর পেরিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদান। |
| কৃতজ্ঞতা প্রকাশ | রাষ্ট্র প্রধান, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং তাঁর সুস্থতায় দোয়া করা দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। |
বক্তব্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক রূপ তুলে ধরেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থ থাকাকালে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ায় তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
বিশেষভাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকার নিজে গিয়ে তাঁকে দেখে এসেছেন। যদিও সে সময় তিনি অচেতন ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে গভীরভাবে স্পর্শিত হন। এই আচরণকে তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতি কেবল মতপার্থক্যের জন্য নয়, বরং মানুষের আশার প্রতিফলনের জন্য। জীবনের বাকি সময়টুকু নিজ নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের সেবায় উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।