ব্যাটারিসহ সোলার বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহে মিলবে প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা; ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থাপনে ৩ বছর মেয়াদি সুযোগ
টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা (Rooftop Solar System) স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, গ্রিড মূল্য নির্ধারণ ও প্রণোদনা পাওয়ার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ ও প্রণোদনার সমীকরণ
বর্তমান বাজারদর এবং দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে এই ব্যয়ের ওপর সরকারের বিশেষ প্রণোদনা যুক্ত করা হয়েছে।
মূল্য কাঠামোর বিস্তারিত:
উৎপাদন ব্যয়: প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮.০০ টাকা।
মুনাফা ও প্রিমিয়াম: ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করা হয়েছে।
নির্ধারিত ক্রয়মূল্য: প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সমাপনী মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
সাশ্রয়ের লভ্যাংশ: কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তাঁর অতিরিক্ত লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রযোজ্য শর্তাবলি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড
'নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫' অনুযায়ী যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তাঁরাই কেবল আগামী ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বাড়তি সুবিধা ও প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা মূল্য পাবেন।
| বিভাগ | নির্ধারিত মানদণ্ড ও সহায়তা ব্যবস্থা |
| অর্থ লেনদেন | বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের হিসাব রাখবে। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হবে। |
| মান নিয়ন্ত্রণ | সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ যন্ত্রপাতির মান বিএসটিআই (BSTI) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SREDA) কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে। |
| সহায়তা সেল | বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারসহ জেলা ও উপজেলা কার্যালয় থেকে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা মিলবে। |
২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত কোনো ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা আর প্রযোজ্য হবে না বলে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।