ট্রাম্প-রদ্রিগেস চুক্তিতে দ্বিগুণ হবে মার্কিন তেল মজুদ; সার্বভৌমত্ব বিক্রি ও গণতন্ত্র ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে কারাকাসে ক্ষোভ
ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন (৬ হাজার ৫০০ কোটি) ব্যারেল তেলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে পরবর্তী ১০০ বছর ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র থেকে জ্বালানি উত্তোলনে বিশেষ সুবিধা পাবে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় আট মাস আগে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের হাতে তৎকালীন শাসক নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর এটিই ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতিফলন।
চুক্তির মূল খুঁটিনাটি ও দুই দেশের লাভ-ক্ষতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ৪৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল যুক্ত হয়ে মোট প্রমাণিত মজুদ ১১১ বিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাবে। এতে কৌশলগত জাতীয় রিজার্ভ পূর্ণ হবে।
অন্যদিক, বিতর্কিত এই চুক্তির পক্ষে শক্ত যুক্তি দিয়ে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস জানিয়েছেন, মাটির নিচে তেল পড়ে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটে না।
কার লাভ, কার ক্ষতি: বিশ্লেষণ
চুক্তিটির সুফল ও কুফল নিয়ে ভেনেজুয়েলাসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
| পক্ষ | সম্ভাব্য লাভ (সুফল) | সম্ভাব্য ক্ষতি (ঝুঁকি ও সমালোচনা) |
| যুক্তরাষ্ট্র | • তেল মজুদ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়া।
• কৌশলগত রিজার্ভ পূর্ণ হওয়া ও বিশ্ববাজারে শক্ত নিয়ন্ত্রণ।
| • আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘মাফিয়াচক্রের মতো সম্পদ দখলের’ অভিযোগ।
• লাতিন আমেরিকায় ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি।
|
| ভেনেজুয়েলা | • ২০,৯০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয়।
• মার্কিন অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ।
| • সার্বভৌমত্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানো।
• গণতন্ত্র ও নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া সুদূর পরাহত হওয়া।
|
ভেনেজুয়েলা জুড়ে তীব্র জনরোষ ও প্রতিক্রিয়া
চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কারাকাসে সাধারণ জনগণ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
‘পিডিইউএসএ’ ব্যঙ্গ ও প্রতিক্রিয়া: রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর (PDVSA) নাম পরিবর্তন করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘পিডিইউএসএ’ (PDUSA) রাখার মিম ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
নব্য ঔপনিবেশিক আক্রমণ: পিডিভিএসএ-এর সাবেক প্রধান রাফায়েল রামিরেজ একে ‘দেশের হৃদপিণ্ডে নব্য ঔপনিবেশিক ছুরি চালানোর’ সামিল বলে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিরোধী নেতা হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাসহ অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প ও রদ্রিগেসের এই চুক্তি দেশে অবাধ নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি তাসের ঘরের ওপর অর্থনীতি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলা এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়, যা দেশটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নতুন এক রাজনৈতিক জটিলতায় ঠেলে দিল।