ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দির ভিন্নতায় বাড়ছে ধোঁয়াশা; খতিয়ে দেখার আশ্বাস গোয়েন্দা পুলিশের
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ধোঁয়াশা ও বৈপরীত্যের প্রেক্ষাপটে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নথিপত্র ও আলামত তুলে দেন। পরবর্তীতে উভয় কর্মকর্তা নগরীর মাছুয়াপাড়াস্থ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
হত্যাকাণ্ড ও আসামিদের জবানবন্দি
গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তরের ছাত্রী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সুরতহালে জানানো হয়।
এ ঘটনায় রোববার ভোরে গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস গভীর রাত পর্যন্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান:
“আসামিরা প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বললেও জবানবন্দিতে বেশ কিছু অতিরিক্ত তথ্য দিয়েছে, যা তারা আগে পুলিশকে জানায়নি। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতেই ডিবিতে নেওয়া হয়েছে।”
ময়নাতদন্ত ও স্বজনদের সন্দেহ
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই আসামি মিলে এই চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের তথ্যের সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের ফারাক দেখা গেছে। মাত্র দুইজন লোক কীভাবে চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করল, তা নিয়ে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মনে তীব্র সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতদের পরিচয় | শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (২০২৫ সালে অবসরে যান), স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে। |
| ঘটনাস্থল | নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন দোতলা বাড়ি। |
| বর্তমান তদন্তের মোড় | ডিবির অধীনে নতুন উপাত্ত ও স্বীকারোক্তিমূলক অতিরিক্ত তথ্যের বিশ্লেষণ চলছে। |
সন্দেহ ও অসঙ্গতিগুলোর জট কাটাতে ডিবি পুলিশ মামলাটির সবকটি দিক নিখুঁতভাবে তদন্ত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।