ধনাঢ্য ব্যক্তি ও চিকিৎসকদের টার্গেট করা চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার; হাসপাতালে আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধীকে হেফাজতে নিতে না পারলে দায়িত্বে অবহেলাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
শান্তিনগরের হামলা ও চক্রের গ্রেপ্তার
গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার পর অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এর কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
হামলার ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে:
লক্ষ্মীপুর থেকে: ১ জন গ্রেপ্তার।
ঢাকা থেকে: ২ জন গ্রেপ্তার।
ঘটনাস্থল থেকে: ১ জন গ্রেপ্তার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই সংঘবদ্ধ চক্রটির মূল হোতা হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের টার্গেট করে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা
চিকিৎসক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা সুসংহত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে শর্ত সাপেক্ষে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের (পিস্তল/শটগান) লাইসেন্সের আবেদন করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
| অপরাধ দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ | বিবরণ |
| চাঁদাবাজদের তালিকা | চিহ্নিত অপরাধীদের পাশাপাশি চাঁদাবাজিতে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা তৈরি |
| চিকিৎসকদের নিরাপত্তা | হাসপাতালে আনসার মোতায়েন ও ব্যক্তিগত অস্ত্রের আবেদন গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা |
| বিশেষ আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত | ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহ্যগত সামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন, পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি যেখানে দুর্বলতা রয়েছে সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা হবে।