‘গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 08-08-2026

‘গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘এটি কোনো নিউটনের আপেল ছিল না যে অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েছে’; সিনেট ভবনের আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ

     জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয় নয়, বরং টানা ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ ও ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতি না করার আহ্বান জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর প্রতি বার্তা দেন।

  • ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি। কেউ যদি মনে করে, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তবে তা চরম রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।”

  • রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে প্রতিক্রিয়া: গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির রাজপথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। চেতনা বিক্রি করে বা অপরকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ।

  • ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধের তাগিদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্তক করে বলেন, অতীতে ১৯৭১ সালের চেতনা বিক্রি করতে করতেই শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটানো যাবে না, যা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করে।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবিকারী শিক্ষকদের নজরদারির নির্দেশ উপাচার্যের


আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন।

উপাচার্য দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষক সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন এবং বিবৃতি দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান দিকসমূহবিবরণ ও তথ্য
অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুজুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শিক্ষকদের ভূমিকা
আয়োজকসাদা দল (ঢাবি) ও ইউট্যাব (UTAB)
প্রধান অতিথিসালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
বিশেষ বক্তব্যঅধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম (উপাচার্য, ঢাবি)
উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম স্পষ্ট করেন, “৪০৪ জন শিক্ষককে বর্তমানে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় আনা কোনো প্রতিহিংসা নয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ, ক্যাম্পাসে শিক্ষাবান্ধব ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com