যেকোনো এক দেশে সশস্ত্র আক্রমণ মানেই তিন দেশের ওপর হামলা; মক্কায় ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন!
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে নিজেদের ভৌগোলিক ও সাময়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক এক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। নতুন এই ত্রিদেশীয় চুক্তির আওতায়—তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালিত হলে তা সামগ্রিকভাবে তিন দেশের ওপরই যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মক্কায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ও চুক্তির মুহূর্ত
ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এর রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুগুণ বেড়ে গেছে।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সৌদি আরবে অবস্থান করে ওমরাহ পালনের পরদিন এই চুক্তিতে অংশ নেন। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সৌদি সফরে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
প্রেক্ষাপট ও সময়কাল: জানা গেছে, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্দার আড়ালে চলা নিবিড় আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেল। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত ইরান, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিমান ও ড্রোন হামলার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে সৌদি আরবের জ্বালানি খাত।
দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় সৌদি আরব তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তেল রপ্তানি খাত সুরক্ষিত রাখতে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এই চুক্তি মূলত তিনটি দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কেরই বর্ধিত রূপ।
| দেশ | পারস্পরিক সামরিক অবদান ও যৌথ সম্পর্ক |
| পাকিস্তান ও সৌদি আরব | পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে। |
| তুরস্ক ও পাকিস্তান | দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধজাহাজ, প্রশিক্ষণ বিমান নির্মাণ ও সামরিক মহড়া বিনিময় করে আসছে। |
| তুরস্ক ও সৌদি আরব | ২০২৩ সালে আঙ্কারা তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে ড্রোন বিক্রি শুরু করে। |
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তান সরাসরি কোনো হামলার শিকার না হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত প্রশমনে তাদের বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থ জড়িত। চুক্তিটির ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন শক্তিশালী অক্ষ তৈরি হলো।