সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘রিপন ভিডিও’ খ্যাত রিপন মিয়ার (৩০) বিরুদ্ধে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক দরবার বা গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে উক্ত গ্রাম্য সালিশের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘রিপন ভিডিও’ নামে কন্টেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পান।
ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীর মা জানান, তিনি প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনা স্বীকার করে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়েটি বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার নন্দুরা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালের দিকে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন।
রিপন মিয়ার গর্ভবতী স্ত্রী চম্পা আক্তার জানান, তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না এবং প্রতিবেশীদের মুখে শুনেছেন। তবে তাঁর স্বামী নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন এবং অন্যায়ভাবে তাঁদের ওপর জরিমানা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় মাতব্বররা গ্রাম্য সালিশ ডেকে ঘটনাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিপনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় | রিপন মিয়া (৩০), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট ক্রিয়েটর |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী (অপ্রাপ্তবয়স্ক) |
| গ্রাম্য সালিশের রায় | ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১ সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ত্যাগের নির্দেশ |
| আইনগত অবস্থা | থানায় কোনো এজাহার হয়নি; তবে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে |
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ওসি স্পষ্ট করে বলেন, “ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ গ্রাম্য দরবারে টাকার বিনিময়ে বা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো আইনি সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী পরিবার বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”