ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সারা দেশে সরকারিভাবে সাধারণ ছুটি পালিত হবে। গত বছর থেকে দেশের সরকারি ছুটির তালিকায় স্থান পাওয়া এই বিশেষ দিনে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
তবে সাধারণ ছুটি হলেও নাগরিক জীবনের সুরক্ষায় জরুরি ও জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই ছুটি প্রযোজ্য হচ্ছে না। জনস্বার্থে তাঁদের নির্ধারিত ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী স্ব স্ব কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি যেসব সেবা ও দপ্তর সাধারণ ছুটির মধ্যেও পুরোপুরি সচল থাকবে:
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ইত্যাদি) ও কারাগার।
জরুরি উদ্ধার ও ইউটিলিটি: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা ও জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
পরিবহন ও বন্দর: বিমানবন্দর, সমুদ্র ও স্থলবন্দর, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং দূরপাল্লার সড়ক গণপরিবহন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: যেসকল দপ্তর জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের অনুমোদিত সরকারি ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, চলতি বছর ৫ আগস্ট পড়েছে বুধবার। ফলে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি পরবর্তী দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করতে পারেন, তবে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটিসহ তিনি টানা ৪ দিনের দীর্ঘ ছুটি কাটাতে পারবেন।
| খাত/প্রতিষ্ঠান | ৫ আগস্টের ছুটির সিদ্ধান্ত ও নীতি |
| সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত | সাধারণ ছুটি (বন্ধ থাকবে) |
| জরুরি সেবা (হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পুলিশ) | ছুটির আওতামুক্ত (স্বাভাবিক ডিউটি রোস্টারে চালু) |
| ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনামা অনুযায়ী নিজস্ব সিদ্ধান্ত |
| পোশাক কারখানা ও বেসরকারি খাত | নিজস্ব কর্পোরেট নীতি ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা |
এদিকে পোশাক কারখানা, বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সার্বিক নির্দেশনার আলোকেই তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিনের ছুটি সমন্বয় বা পরিচালনা করবে।