মোটরসাইকেলসহ সকল প্রকার মোটরযানে ক্ষতিকর হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা যেকোনো অননুমোদিত শব্দের হর্ন ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আদেশ অমান্য করে এসব যন্ত্র ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) গত ২১ জুলাই জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিআরটিএ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২’-এর ৮১ নম্বর বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা ছাড়া সাধারণ যানবাহনে বিকট ও সুরের হর্ন ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
জরুরি সেবার জন্য ছাড়: কেবল অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার সার্ভিস (অগ্নিনির্বাপক) বা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত যান এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট যানবাহনই কেবল বিশেষ হর্ন ব্যবহার করতে পারবে।
সাধারণ যানবাহনে নিষিদ্ধ: এর বাইরে অন্য যেকোনো মোটরবাইক, কার, বাস বা ট্রাকে বিভিন্ন সুরের বহুমুখী হর্ন কিংবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট ও ভীতিকর শব্দ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো হর্ন বা যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিআরটিএ তাদের বার্তায় উল্লেখ করে, এ ধরনের অননুমোদিত ও উচ্চশব্দের হর্ন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। একই সাথে এসব উচ্চশব্দের হর্ন চালকদের বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করে, যা প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সম্প্রতি অনেক মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার লাগিয়ে সাধারণ মানুষের তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টির প্রবণতা দেখা গেছে, যা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
| বিষয় | বিআরটিএ-এর নির্দেশনা ও বিধান |
| আইনি ভিত্তি | সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ (বিধি ৮১) |
| ছাড়প্রাপ্ত যানবাহন | অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী যান ও জরুরি রাষ্ট্রীয় মোটরযান |
| সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ | হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার, সুরের বহুভাষী হর্ন, বিকট শব্দকারী যেকোনো যন্ত্র |
| আইনি পরিণতি | আদেশ না মানলে মামলা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ |
এই অবস্থায় সকল সাধারণ যানবাহন মালিক ও চালকদের অননুমোদিত ও ক্ষতিকর যেকোনো হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় বিআরটিএ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।