দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে। যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ ও সুস্থ পরিবেশ।”
আজ সোমবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভিডিও বার্তায় সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গত ৩০-৪০ বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ দেশের জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে কিংবা বাসে চলাচল করেন। যত্রতত্র আবর্জনা জমা হয়ে থাকলে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আমরা যদি সচেতন হয়ে আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে তা ধ্বংস করি, তবেই পরিবেশকে সুন্দর রাখা সম্ভব।”
| বিষয় | প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা ও নির্দেশিকা |
| বর্তমান সমস্যা | প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ও বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও যত্রতত্র নিক্ষেপ |
| সাধারণ মানুষের কষ্ট | পথচারী ও বাসযাত্রীদের দুর্গন্ধে ভোগান্তি ও পরিবেশ দূষণ |
| করণীয় | বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখা ও পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা |
| চূড়ান্ত লক্ষ্য | ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আবর্জনামুক্ত, সুন্দর ও সুস্থ বাংলাদেশ তৈরি |
নিজের ঘরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “আপনি যে ঘর বা বাসায় থাকেন, সেখানে চারিদিকে ময়লা ছড়িয়ে থাকলে কি আপনার ভালো লাগতো? নিশ্চয়ই না। তাহলে আমাদের চারপাশের পরিবেশটাকেও কেন আমরা সুন্দর রাখব না? কবি তো লিখেছেন—‘সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন’।”
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, “গত কয়েক মাসে বিভিন্ন এলাকা সফরের সময় দেখেছি, যেসব পুকুর বা পুকুরপাড়ে একসময় মানুষ পরিবার নিয়ে গল্প করত, সেখানে এখন ময়লার স্তূপ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার করার পরও আমরা চলে আসার পর পরিবেশ আর আগের মতো পরিচ্ছন্ন থাকছে না। অথচ আমরা যদি পরিষ্কার করে রেখে আসি, তবে আমাদের পরবর্তী ব্যক্তিও সেই সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবেন।”
দেশ গঠনে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশটা তো আমাদের সবার। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি, তবে নিশ্চয়ই বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজ আমি এই পরিচ্ছন্নতার সহযোগিতাটুকু চাইছি।”