আইনের শাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: মির্জা ফখরুল


অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি , আপডেট করা হয়েছে : 03-08-2026

আইনের শাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী; আইনি শাসন, টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র জোরদারের আহ্বান


     বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার বা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “একটি বিষয় আমাদের সবসময় হৃদয়ে ধারণ করতে হবে—তা হলো আইনের শাসন ও ইনসাফ (রুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস)। এই দুটি মূল স্তম্ভ যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, তবে সমাজকে বহু দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”


ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামো


সাবেক সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও জেলাকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত অঞ্চলে রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরেন।


  • বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ: জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও উপাচার্য নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, জমি নির্ধারণের কাজও চূড়ান্ত। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন হয়ে গেছে, যার প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাস আগামী বছর থেকেই পুরনো হাসপাতালে শুরু হতে যাচ্ছে।


  • নগর মাস্টারপ্ল্যান ও রিং রোড: ঠাকুরগাঁও শহরকে অপরিকল্পিত বৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে আনা হচ্ছে। যানজট নিরসনে একটি 'ডাইভার্স রোড' বা রিং রোডের প্রস্তাব ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে।


  • শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান: জেলাটিতে দারিদ্র্যের হার বেশি থাকায় কৃষিভিত্তিক কলকারখানা ও নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মাদকমুক্ত সমাজ


দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে ২০ কোটি মানুষের বসতি হওয়ায় দারিদ্র্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

“দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পর আমরা এক ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সংসদীয় কমিটিগুলোর মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে।”

প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতে নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কারণেই অবশেষে সেখানে গণতন্ত্র টিকে থাকে। বাংলাদেশেও মতবিরোধ ও বিরোধী দলের আন্দোলন থাকবে, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।


অফিস: নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা-১০০০

ইমেইল : info@trendnewsbd.com