ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘদিনের কৌতুহল ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ পরিণয়ে রূপ দিচ্ছেন এই তারকা জুটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকার নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার বিয়ের মুল আচার-অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় ঐতিহ্য ও রীতি মেনে বেলা তিনটা থেকে বিয়ের মূল পর্ব শুরু হবে।
https://www.instagram.com/p/DNOPitPoAgN/?utm_source=ig_embed&ig_rid=AbuzSWKoIM21SSDiTg5Ujqd
বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথিদের আপ্যায়ন ও বর্ণাঢ্য রিসেপশন আয়োজন করা হয়েছে শহরের বিশ্বখ্যাত ও অত্যন্ত বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল ‘স্যাভয় প্যালেস’-এ।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| বর ও কনে | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১) ও জর্জিনা রদ্রিগেজ (৩২) |
| বিয়ের দিন | আগামী শনিবার |
| বিয়ের প্রধান ভেন্যু | ফুনচাল ক্যাথেড্রাল, মাদেইরা, পর্তুগাল |
| সংবর্ধনা অনুষ্ঠান | স্যাভয় প্যালেস হোটেল (পাঁচ তারকা) |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | শুক্র ও শনিবার হোটেলের কয়েকটি তলা ও বার পুরোপুরি রিজার্ভ করা হয়েছে |
এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল যে পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত 'কুইন্তা দা রেগালেইরা' এস্টেটে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। তবে ওই সময় এস্টেটটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর সেই জল্পনা থেমে যায় এবং মাদেইরার ভেন্যুটি চূড়ান্ত হয়।
ফুনচাল শহরটি কেবল একটি ভেন্যু নয়, রোনালদোর জীবনের শেকড়ের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। এই শহরেই অতি দরিদ্র পরিবারে কেটেছে তাঁর শৈশব। ১১ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে লিসবনে পাড়ি জমানো রোনালদোর কাছে নিজের জন্মভূমিতে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত আবেগের।
২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি নামীদামি ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সাথে প্রথম দেখা হয় রোনালদোর। সেই পরিচয় রূপ নেয় ভালোবাসায়। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলা এই উইঙ্গার গত বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি বিলাসবহুল ইয়টে ভ্রমণের সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই শুভ কাজ সেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল ফুটবল জাদুকরের। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন তাঁরা।